×

মুক্তচিন্তা

মুক্তচিন্তা

আলোচনা-সমালোচনা

Icon

নিয়াজ জামান সজীব

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

আলোচনা-সমালোচনা

আলোচনা-সমালোচনা

শৈশবে মনে করতাম ভালো কাজের বা ভালো মানুষের কোন সমাশৈশবে মনে করতাম ভালো কাজের বা ভালো মানুষের কোন সমালোচনা হয় না। যাকে ভালো মনে হতো- ভাবতাম তার সবই ভালো। তাই তাকে নিয়ে সব ভালো ভালো কথা বলতাম- মানে আলোচনা করতাম- তিনি কত ভালো। কিন্তু সময়ের সাথে বুঝলাম দোষে-গুনেই মানুষ। যার গুন বেশী তিনি ভালো। যার গুন কম প্রকাশিত হয় তিনি কম ভালো। আসলে সবকিছু প্রকাশের উপর নির্ভর করে। তবে এতদিনে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে- আলোচনা ও সমালোচনা কখনো বন্ধু, কখনো শত্রু আর অনেক ক্ষেত্রেই সৎ ভাই। 

এবার রাজনীতি নিয়ে যদি বলি তবে অবশ্যই আলোচনায় থাকাই অনেকক্ষেত্রে মূল বিষয় হয়ে যায়। রাজনীতিবিদ যিনি যতটা সমালোচনা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন তিনিই ততো উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। প্রেমের ক্ষেত্রেও কোনো প্রেমিক বা প্রেমিকা সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। কাছের বন্ধুও সবচেয়ে বড় সমালোচক হয়ে উঠতে পারে। 

একজন নীতিবান লোক আমাকে বলেছিলেন- যার সমালোচনা নাই তার আলোচনাও নাই। সমালোচনা থেকেই আলোচনার সৃষ্টি হয়। তার কথা শুনে আসলেই বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় মানুষ আলোচনা ও সমালোচনার চক্রেই বেড়ে ওঠে। রঙিন জগতে যার যতো সমালোচনা তার অবস্থান ততো মজবুত। কেউ তো শুনি নিজেই সমালোচনার জন্ম দিয়ে গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলেন। এক দেশে হামলা হলে বা মানুষের উপর নির্মমতার ঘটনা ঘটলেই জাতিসংঘ সবসময়ই তীব্র সমালোচনা করে। 

পুঁথিগত সংজ্ঞার আলোকে- আলোচনা বলতে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অন্বেষণে একটি কথোপকথন। যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের আলাপ। যা মূলত তথ্য বিনিময় করে। আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানে আসা যায়। এই যে কথোপকথনের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো তা যাদের মনমতো হবে না- তারা যখন অন্য কথা বলে- তা নেতিবাচক হলে তার নাম হয়ে যায় সমালোচনা। ব্যক্তির মূল্যায়ন গঠনমূলক বা আক্রমনাত্মক হতে পারে। গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে ভালোই লাগে। সহজে গ্রহণ করা যায়। গঠনমূলক সমালোচনার ফলে দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হয়। কিন্তু জটিলতা বাড়ে আক্রমনাত্মক সমালোচনায়।

সমালোচনা করতে আলোচনা মন দিয়ে শুনতে হয়। বিশেষ করে টক শো বা বিভিন্ন সেমিনারে আলোচনা ও সমালোচনা করতে যথেষ্ট পড়া এবং শুনা, তথ্য সংগ্রহ করে তা আবার নানা আঙ্গিকে বিশ্লষণের জন্য অনেক খাটুনি আছে। আবার অন্য আলোচকের কথা মনোযোগের সাথে শুনে তার পাল্টা যুক্তি দেয়াও কিন্তু কম কষ্টের নয়। তবে যখন ধৈর্যচ্যুতি ঘটে তখনই মানুষ সমালোচনা বেশী করে।  

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়- মানুষের মানসিক অস্থিরতা ও রোগাক্রান্ত অবস্থায় ইতিবাচক অনেক কথাও তিতা লাগে। তখন সমালোচনা বেশী করে। আর পেটের গোলমালের সাথে মেজাজ খারাপের যে ঐতিহাসিক সর্ম্পক তার ফলে আলোচনার চেয়ে বেশী সমালোচনা ও উত্তেজনা তৈরী হয়। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার যাদের আছে তারা বুঝতে পারে না যে কী হচ্ছে। তাই তাদের মনে হয় এ জীবনের পাতায় পাতায় শুধু ভুল আর ভুল। আর এই ভুল উপলব্ধি তাকে আরও বেশী সমালোচনা করতে উৎসাহিত করে। 

খ্যাতির বিড়ম্বনা যেমন আছে তেমনি অতি খ্যাতির কারণে অনেকে দুঃখ পেয়ে সমালোচনার ঝাপি খুলে বসে। যদিও পৃথিবীতে বড় বড় সমস্যার সমাধান আলোচনার টেবিলে হয়েছে। বহু আলোচনা বছরের পর আলোচনার টেবিলেই আটকে আছে। ইসরায়েল- ফিলিস্তিন সমস্যা এখনো টেবিলেই আটকে আছে। আলোচনাও হয়- হামলাও হয়- জীবনও যায়। কিন্তু হায় ক্ষমতাবানদের সমালোচনা এ দুনিয়ায় কে করতে সাহস পায়। 

সাহিত্যে সমালোচনামূলক লেখার বেশ কদর রয়েছে। সিনেমা, শিল্প, চিত্রকলায় সমালোচক পুরষ্কার খুব মর্যাদাপূর্ণ।

কারোর দিকে আঙ্গুল তোলার আগে মনে রাখবেন অন্য কারো আঙ্গুল হয়তো আপনার দিকেই ইশারা করছে। এই কথাটি বিশে^ ব্যাপক আলোচিত। কথা বলার সময় বা অন্যকে ছবক দেয়ার সময় এই লাইনটি আমরা ব্যবহার করলেও সমালোচনার সময় আমরা তা বেমালুম ভুলে যাই।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যের দোষ নিয়ে কথা বলে, আল্লাহ তা'আলা কেয়ামতের দিন তার গোপন দোষ প্রকাশ করবেন (তিরমিজি)। মন যখন বিস্বাদে ভরে ওঠে তখন কোন বাধা আর মানে না। খালি সমালোচনা করতে মন চায়।  এই চাওয়া- পাওয়ার হিসেব নিয়ে নিজের সাথে নিজের আলোচনাও হয়। নিজের সাথে কথা বলেও অনকে কিছুর সমাধান হয়।

বিশে^র এখন বহু দেশ এখনো নিজেদের মানবতার ফেরিওয়ালা দাবি করে মিত্রদের নিয়ে আলোচনা করে। মিত্র তালিকা থেকে কেউ দূরে সরে গেলে বা বাদ পড়লেই আর আলোচনার আলো তাদের উপরে পড়ে না। সব কেমন যেনো অন্ধকারে ঢেকে যায়। ডেকে আনে সমালোচনার তীর। চৌকা টেবিলে বসে শত্রæদের বিদ্ধ করা হয়। ভালো ভালো আলোচনার অধিবেশনও মুলতুবি হয়ে যায়। হায় হায়। যে ছিলো হৃদয়ের আয়নার প্রতিচ্ছবি সে হয়ে যায় কেবলই দেয়ালে টানানো ছবি। আলো উড়ে যায় রয়ে যায় লোচন। যেমন কানা ছেলের নাম পদ্ম লোচন।

লেখক: সাংবাদিক

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ’

‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ’

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ, সুযোগ পাবেন যারা

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ, সুযোগ পাবেন যারা

সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাশের হার ৯৯ শতাংশ

এইচএসসি সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাশের হার ৯৯ শতাংশ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App