আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩ জেলার ৭০ চরমপন্থি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ফাইল ছবি
একসময় সর্বহারা চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পাশাপাশি দফায় দফায় আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন এই তিন জেলার আরও ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে তাঁদের আত্মসমর্পণের কথা রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৭০ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। তাঁদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআরবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
যেভাবে বিস্তার ঘটে চরমপন্থিদের
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মার্কস-লেনিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) উল্লেখযোগ্য।
১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠনের বিস্তার ঘটতে থাকে। সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা তরুণদের ভুল বুঝিয়ে দলে ভেড়াতেন। আশির ও নব্বইয়ের দশকে চরমপন্থিদের তৎপরতা ব্যাপক আকার ধারণ করে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া চালানোর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে তারা। এসব সংগঠনের তৎপরতায় কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরবর্তী সময়ে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে সংগঠনগুলো বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যেও সংঘাত ও হত্যাকাণ্ড বাড়তে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে।
আগেও দফায় দফায় আত্মসমর্পণ
চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে বিভিন্ন সময়ে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চরমপন্থি সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক সদস্য।
এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র্যাব-১২-এর কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার আরও ৭০ জন সর্বহারা চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে এসআরবি। তাঁদের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
