×

প্রথম পাতা

টানা তিন জয় আর্জেন্টিনার

আরো একটি রেকর্ড আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির

Icon

মুহাম্মদ রুহুল আমিন

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

টানা তিন জয় আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে। কিন্তু শেষ হয়নি লিওনেল মেসির গোলের ক্ষুধা, থামেনি আর্জেন্টিনার জয়যাত্রাও। বরং যত সময় গড়াচ্ছে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যেন আরো পরিণত, আরো আত্মবিশ্বাসী এবং আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আর সেই পথচলার সবচেয়ে বড় নাম লিওনেল মেসি। তিন ম্যাচে ছয় গোল করে তিনি যেমন গড়েছেন নতুন বিশ্বরেকর্ড, তেমনি আর্জেন্টিনাও তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে জানিয়ে দিয়েছে- শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে তারা এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদারদের একটি।

রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি ছিল অনেকটা নিয়মরক্ষার। কারণ আগের দুই ম্যাচ জিতেই নকআউট নিশ্চিত করেছিল লিওনেল স্কালোনির দল। তাই এই ম্যাচে একাদশে একসঙ্গে নয়টি পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টাইন কোচ। অধিনায়ক লিওনেল মেসিও ছিলেন বেঞ্চে। কিন্তু খেলোয়াড় বদলালেও বদলায়নি আর্জেন্টিনার ফুটবলের ছন্দ।

শুরু থেকেই বলের দখল, আক্রমণের গতি এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতে। সপ্তম মিনিটেই জিওভানি লো সেলসো গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবে হতাশ হতে হয়নি বেশি সময়। ১৯ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক বাঁকানো ফ্রি-কিকে জর্ডানের গোলকিপারকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন লো সেলসো। গোলটি ছিল নিখুঁত পরিকল্পনা ও অসাধারণ দক্ষতার প্রতিচ্ছবি।

প্রথম গোলের পর আক্রমণের ধার আরো বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৩১ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসকে ফাউল করার ঘটনায় ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি পায় তারা। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি লাউতারো মার্তিনেস। ঠান্ডা মাথায় জর্ডান গোলকিপারকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। প্রথমার্ধজুড়েই আর্জেন্টিনার আধিপত্য এতটাই স্পষ্ট ছিল যে জর্ডান কার্যত নিজেদের অর্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ৫৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে এহসান হাদ্দাদের নিখুঁত পাসে বদলি খেলোয়াড় মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান কমান। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম গোল। মুহূর্তের জন্য ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরলেও সেই উত্তেজনা বেশিক্ষণ টেকেনি।

৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় স্টেডিয়ামের পরিবেশ। গ্যালারির হাজারো দর্শক যেন শুধু একটি মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন- মেসির আরেকটি জাদুর। সেই অপেক্ষা শেষ হয় ৮০ মিনিটে। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সবাই ধারণা করেছিল মেসি হয়তো বলটি দেয়ালের ওপর দিয়ে তুলবেন। কিন্তু তিনি বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। নিচু, বাঁকানো এবং নিখুঁত এক শটে জর্ডানের গোলকিপারকে হতভম্ব করে বল পাঠিয়ে দেন জালে। গোলটি ছিল একইসঙ্গে বুদ্ধিমত্তা, কৌশল এবং অসাধারণ দক্ষতার অনন্য প্রদর্শনী। এই এক গোলেই আবারো ইতিহাস লিখলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং তৃতীয়

ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে একটি গোল- তিন ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯, যা তাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে শুধু গোলসংখ্যাই নয়, মেসির ধারাবাহিকতাও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। টানা তিন ম্যাচে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে আরো একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও তার ক্ষুধা, ফিটনেস, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এবং ম্যাচের গতি বদলে দেয়ার সামর্থ্য এতটুকু কমেনি। বরং বড় আসরে তিনি যেন আরো বেশি কার্যকর হয়ে উঠছেন।

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ৮ গোলের মধ্যে ৬টিই এসেছে মেসির পা থেকে। অর্থাৎ দলের মোট গোলের ৭৫ শতাংশ করেছেন অধিনায়ক। তবে এটাও সত্য, এই আর্জেন্টিনা কেবল একজন খেলোয়াড়ের দল নয়। লো সেলসোর সৃজনশীলতা, লাউতারো মার্তিনেসের গোল করার দক্ষতা, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং বেঞ্চের গভীরতা- সব মিলিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত দল হিসেবেই নিজেদের তুলে ধরেছে স্কালোনির শিষ্যরা।

জর্ডানের বিপক্ষে নয়টি পরিবর্তন এনে খেলেও জয় ধরে রাখা সেটিরই বড় প্রমাণ। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে শিরোপা জিততে শুধু সেরা একাদশ নয়, পুরো স্কোয়াডের শক্তি প্রয়োজন হয়। সেই পরীক্ষায়ও এখন পর্যন্ত সফল আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে তারা করেছে ৮ গোল, হজম করেছে মাত্র ১টি। তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষের চেয়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে ছিল এগিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা, তিন ম্যাচেই জয় এসেছে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে। প্রথম ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক, দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোলে রেকর্ড, আর তৃতীয় ম্যাচে বেঞ্চ থেকে নেমে আবারো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ-প্রতিবারই আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে, প্রয়োজনের সময় তারা নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে পারে।

এবার রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার চমক কেপ ভার্দে। নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ নেই। তবে গ্রুপ পর্ব শেষে আর্জেন্টিনার যে আত্মবিশ্বাস, যে ভারসাম্য এবং যে ছন্দ দেখা গেছে, তাতে তাদের থামানো সহজ হবে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

বিশ্বকাপের শুরুতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, বয়স কি শেষ পর্যন্ত মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে? তিন ম্যাচ শেষে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মেসি নিজেই। একের পর এক গোল, একের পর এক রেকর্ড আর মাঠজুড়ে অনন্য নেতৃত্ব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন- কিংবদন্তিরা বয়স দিয়ে নয়, পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেদের পরিচয় দেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ব্যক্তি করদাতার জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক

ব্যক্তি করদাতার জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক

চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খেলাধুলা, ডিপিইর নতুন নির্দেশনা

চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খেলাধুলা, ডিপিইর নতুন নির্দেশনা

‘দেলুপি’ দেখে মুগ্ধ বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ

‘দেলুপি’ দেখে মুগ্ধ বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ

রাজধানীর ৩ সরকারি হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক ১৩

রাজধানীর ৩ সরকারি হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক ১৩

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App