‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমাতে পারলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০২:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব। তাঁর মতে, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা নিশ্চিত হলে করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে উৎসাহিত হবেন।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে একজন করদাতাকে শুধু সরকারকে কর দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক চাপ ও চাঁদাবাজির কারণে অতিরিক্ত অর্থও গুনতে হয়। এ ধরনের অনিয়ম কর ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, করদাতাদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা বৈধভাবে একবারই কর পরিশোধ করবেন এবং অতিরিক্ত কোনো চাপের মুখে পড়বেন না। এতে কর প্রদানে আগ্রহ বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
ব্যবসায়ীদের আস্থার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রতি বিশ্বাস থাকলে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে কর দিতে আগ্রহী হন।
উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে নিরাপদ পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার কারণে করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর প্রদান করেন।
বর্তমান জুলাই-জুনভিত্তিক অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বরভিত্তিক অর্থবছর চালুরও প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর ভাষ্য, জুন মাসে বর্ষা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। তাই ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে অর্থবছরের সমন্বয় করা হলে বাজেট প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও আর্থিক পরিকল্পনায় আরও সমন্বয় আসবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও কার্যকর হবে।
বক্তব্যে সংসদীয় সংস্কৃতি নিয়েও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদে একে অপরকে ‘কুচকুচ’ করে আক্রমণ করার পর আবার ঐক্যের আহ্বান জানানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা পরিহার করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল সংসদের দুটি চাকার মতো। একটি চাকা অচল হয়ে গেলে পুরো সংসদীয় ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চলতে পারে না। তাই বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক সম্মান ও গঠনমূলক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদ মূলত দুটি চাকার ওপর চলে। একটি সরকারি দল, অন্যটি বিরোধী দল। যেকোনো একটি চাকা অচল হয়ে গেলে পুরো যানবাহনই অচল হয়ে পড়বে। তাই এই দুই চাকায় পিন বা পেরেক মেরে ফুটো করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সংসদে “কুচকুচ” করে কাটার পর আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর যে মানসিকতা, সেই বিভাজনের যন্ত্র ফেলে দিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, সরকারি দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বিরোধী দল চোখ বন্ধ করে মেনে নেবে না। আবার সরকার কোনো ভালো উদ্যোগ নিলে শুধু বিরোধিতার জন্য তার বিরোধিতাও করা উচিত নয়। সরকারকে বিরোধী দলকে সম্মান করতে হবে, একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার মানসিকতা রাখতে হবে।
সংসদ তোষামোদের জায়গা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি দায়িত্ব পালনের জায়গা। জনগণের ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করে সংসদে ব্যক্তিকে খুশি করতে গান, কবিতা কিংবা স্বপ্নবিলাস করার যে সংস্কৃতি অতীতে ছিল, তা আর চলতে পারে না।’
ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আঘাত করা এবং চরিত্রহননের যে ‘ব্যাড কালচার’ গড়ে উঠেছিল, তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্পিকারের প্রতিও আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির।
