জিও নিউজের সম্প্রচার ১৫ দিনের জন্য স্থগিত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০২:১০ পিএম
পাকিস্তানের করাচিতে জিও নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজরুমের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র মহররম উপলক্ষে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্কের জেরে পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশটির বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, গত ২৬ জুন প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে এমন কিছু ধর্মীয় দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং জনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। এ ঘটনার পর রোববার জিও নিউজ এক বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়েছে।
চ্যানেলটি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি ভুলবশত সম্প্রচারিত হয়েছিল এবং এটি তাদের সম্পাদকীয় নীতি বা বিশ্বাসের প্রতিফলন নয়।
জিও নিউজ আরো জানায়, বিতর্কিত অংশটি তাদের সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সম্প্রচারিত ফুটেজে ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মানুষের কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান তুলে ধরা হয়েছিল।
এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি উপস্থাপন করা, কোনো ধর্মীয় মতের সমর্থন করা নয়।
পাকিস্তানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং অন্যান্য নবী-রাসুলদের চিত্রায়ণ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে তাঁদের নিয়ে প্রকাশিত কার্টুনকে কেন্দ্র করে অতীতেও দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে ধর্মীয় বিরোধ দ্রুত জনরোষে রূপ নিতে পারে। এ কারণে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশটির সরকার প্রতিবছরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সম্পাদকীয় সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়ায় জিও নিউজের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চ্যানেলটিকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি সংস্থাটির অভিযোগ কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে মাঝেমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন পদক্ষেপ, সম্প্রচার স্থগিত এবং নানা বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।
সূত্র: রয়টার্স।
