হলান্ডের গোলে শেষ ষোলোয় নরওয়ে, সামনে হলুদ দেয়াল
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন ম্যাচই প্রত্যাশা করা যায়। যেখানে দাপট আছে, পাল্টা লড়াই আছে, নাটকীয়তা আছে, আবার শেষ মুহূর্তে তারকার জাদুও আছে। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ের লড়াই ঠিক তেমনই এক গল্প লিখল। দীর্ঘ সময় সমানে সমান লড়াইয়ের পর শেষ হাসি হাসল নরওয়ে। আর্লিং হলান্ডের নির্ধারক গোলে আফ্রিকার প্রতিনিধিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিল ইউরোপের দলটি। সেই জয়ের পুরস্কার হিসেবে শেষ ষোলোতে তাদের অপেক্ষায় এখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, নরওয়ের সামনে সহজ পথ নেই। প্রথম ১৫ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আইভরি কোস্ট। নিকোলাস পেপে, আমাদ দিয়ালো ও কোনানের গতিময় ফুটবল নরওয়ের রক্ষণকে বারবার পরীক্ষায় ফেলে। তবে প্রতিবারই দৃঢ়তা দেখান গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্ড ও তার রক্ষণভাগ।
চাপ সামলে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফেরে নরওয়ে। মাঝমাঠে মার্টিন ওদেগার্ডের নিয়ন্ত্রণ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৩৯ মিনিটে অধিনায়কের নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করেন আন্তোনিও নুসা। মাত্র ২১ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি ছিল শিল্পসম সৌন্দর্যে ভরা। একই সঙ্গে বড় কোনো আন্তর্জাতিক আসরে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েন তিনি।
প্রথমার্ধের সেই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরো বেড়ে যায়। হার মানতে রাজি ছিল না আইভরি কোস্ট। ৫৬ মিনিটে নিকোলাস পেপের নিশ্চিত গোল অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন নিলান্ড। এরপর একের পর এক আক্রমণে নরওয়েকে কোণঠাসা করে রাখে আফ্রিকার দলটি। অবশেষে ৭৪ মিনিটে আসে কাক্সিক্ষত সমতা। ডান প্রান্ত থেকে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে এসে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন আমাদ দিয়ালো। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে করা এই গোলটি বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলোর আলোচনায় জায়গা পাওয়ার মতোই।
সমতা ফেরার পর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বড় তারকারা বড় মুহূর্তেই নিজেদের আলাদা করে চেনান। ৮৬ মিনিটে পাত্রিক বার্গের আক্রমণভাগে বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত সময়ে সঠিক জায়গায় উপস্থিত ছিলেন আর্লিং হলান্ড। এক ছোঁয়ায় বল জালে পাঠিয়ে পুরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ করে দেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার পঞ্চম গোল। গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন ছয় গোল করা লিওনেল মেসির ঠিক পেছনে। জাতীয় দলের হয়ে ৫৩ ম্যাচে তার গোলসংখ্যাও পৌঁছে যায় ৬০-এ।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই ছাড়েনি আইভরি কোস্ট। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে আমাদ দিয়ালোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক ক্রসবারের নিচে ঢুকে যাচ্ছিল। কিন্তু অসাধারণ সেভ করে নরওয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন নিলান্ড। পরিসংখ্যানেও ম্যাচটি ছিল দারুণ প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ। বলের দখলে দুই দল ছিল প্রায় সমানে সমান। আইভরি কোস্ট ১৪টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল। নরওয়ে নয়টি শটের চারটিই রেখেছে লক্ষ্যে, যার দুটি থেকেই এসেছে জয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ পেরোল নরওয়ে। ৮৮ বছর পর নকআউটে গোল পাওয়ার পর এবার মিলল প্রথম জয়ও। সামনে অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের মতো মহাশক্তি। তবে হলান্ড, ওদেগার্ড, নুসাদের আত্মবিশ্বাস বলছে- শুধু শেষ ষোলো নয়, আরো বড় স্বপ্ন দেখার সাহসও এখন তাদের আছে।
