×

প্রথম পাতা

ফ্রান্স-এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য

Icon

মুহাম্মদ রুহুল আমিন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্স-এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এসে অনেক দলই চাপের মুখে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ফ্রান্স যেন উল্টো আরো পরিণত, আরো ধারালো। সুইডেনের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়ে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, ব্র্যাডলি বারকোলার একটি গোল এবং মাইকেল ওলিসের অসাধারণ সৃজনশীল ফুটবল মিলিয়ে ফরাসিরা জানিয়ে দিল, ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা এবারো শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্রান্স। প্রথম ১০ মিনিটেই তাদের বল দখলের হার ছিল ৭২ শতাংশ। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও বারকোলার দ্রুতগতির আক্রমণে সুইডেনের রক্ষণভাগ বারবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধেই এমবাপ্পের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, একটি শট পোস্টে লাগে। ওলিসের অসাধারণ বাইসাইকেল কিকও পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। এত সুযোগ নষ্ট হওয়ার পরও বিরতির ঠিক আগে এমবাপ্পের জোরালো শটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ৫৩ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকোলা। এরপর ৭৪ মিনিটে আবারো ওলিসের রক্ষণচেরা পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে ফ্রান্স মোট ২৫টি শট নেয়, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। সুইডেনের গোলরক্ষক একের পর এক সেভ না করলে ব্যবধান আরো বড় হতে পারত।

এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা ফ্রান্সের জন্য। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে তিনি করেন দুই গোল। দ্বিতীয় ম্যাচেও জোড়া গোল করেন। তৃতীয় ম্যাচে গোল না পেলেও সতীর্থদের দিয়ে করান দুটি গোল। আর শেষ বত্রিশে সুইডেনের বিপক্ষে আবারো করেন জোড়া গোল। অর্থাৎ চার ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচেই দুই গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন, বড় আসরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে। গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে। বিশ্বকাপে তার মোট গোল ১৮টি, যা তাকে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে নিয়ে গেছে। সামনে আছেন শুধু মেসি। নকআউট পর্বে ১০ গোল করে এমবাপ্পে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও ও লেওনিদাসকে।

শুধু এমবাপ্পে নন, ফ্রান্সের সাফল্যের বড় নায়ক মাইকেল ওলিসেও। গোল না করেও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন এই মিডফিল্ডার। চলতি বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্ট এখন পাঁচটি, যা দীর্ঘ তিন দশকের মধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ। মাঝমাঠ থেকে তার রক্ষণভেদী পাস, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ সাজানোর দক্ষতা ফরাসি ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে মায়ের মৃত্যুতে এক ম্যাচ অনুপস্থিত থাকার পর ফিরে এসে জয় দেখলেন কোচ দিদিয়ের দেশম। এমবাপ্পের প্রথম গোলের পর সতীর্থদের নিয়ে তার কাছে ছুটে যাওয়ার দৃশ্যটি ম্যাচের আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকে।

ফ্রান্সের শক্তি এখন শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বল দখল, দ্রুত পাস, আক্রমণের বৈচিত্র্য, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা- সব মিলিয়ে তারা পূর্ণাঙ্গ একটি দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। টানা পাঁচ বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছে ফরাসিরা। ২০২২ সালে শিরোপা হাতছাড়া হলেও সেই ক্ষুধা এবার আরো প্রবল হয়ে ফিরে এসেছে।

শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। বর্তমান ফর্ম, আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণের ধার বিবেচনায় ফরাসিরা সেই ম্যাচেও স্পষ্ট ফেবারিট। তবে নকআউট ফুটবলে সামান্য ভুলও বড় মূল্য চোকাতে হয়। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বিশ্বকাপের ট্রফির দিকে আরেক ধাপ এগোতে চাইবে এমবাপ্পের ফ্রান্স।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণে ঝুঁকি নেই

সেতুমন্ত্রী পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণে ঝুঁকি নেই

আরব সাগরে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিখোঁজ ১

আরব সাগরে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিখোঁজ ১

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় বাড়ছে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসংকট

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় বাড়ছে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসংকট

তেজগাঁওয়ে  বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬১

তেজগাঁওয়ে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬১

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App