বরিশালে তোলপাড়
অণ্ডকোষ চেপে স্ট্যাম্প-চেকে স্বাক্ষর
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশালে একটি ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প এবং চেকে স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুইজন হলেন- মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ। গতকাল রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ। বরিশালে ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে, এ ঘটনার শুরুতে গ্রেপ্তার ব্যক্তি মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল কর্মী বলে দাবি করা হলেও তিনি যুবদলের কেউ নন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম।
জানা গেছে, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরের সদর রোডে অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার আব্দুল আজিজ হাওলাদার গত শনিবার রাতে কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে ঘটনাটি আলোচনায় আসে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চার যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে একজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেকে ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়। মারধরের সময় আজিজ বাচ্চু-বাচ্চু বলে চিৎকার করলে আরেক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে লিটুর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবিও তোলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিটুর বাড়ি অগ্রণী হাউজিংয়ের অদূরে কাটপট্টি সড়কে। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। নগরীতে লিটু যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচলিত থাকলেও গতকাল রবিবার দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা দাবি করেন, লিটু যুবদলের কোনো ওয়ার্ড কমিটিরও সদস্য নন। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেও তাকে কখনো দেখা যায়নি।
ঘটনার শিকার আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, লিটু একসময় অগ্রণী হাউজিংয়ের অংশীদার ছিলেন। তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি বুঝিয়ে দিয়ে বিক্রিও করা হয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কোনো পাওনা নেই- মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামাও রয়েছে। এরপরো লিটু তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।
আজিজের অভিযোগ, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করেন। পরে জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়। তিনি আরো জানান, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি জানিয়ে চেকগুলোর বিষয়ে অভিযোগ করায় কোনো টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার আদালত তার নালিশি মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। সিসিটিভি ফুটেজ তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। গ্রেপ্তারের আগে অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু সাংবাদিকদের বলেন, যারা ওই দিন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আব্দুল আজিজ পরিচালকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরিচালকেরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আব্দুল আজিজ গত শনিবার রাতে থানায় এসে আদালতে মামলা করার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি আজ (গতকাল) রবিবাবর থানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
