হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর প্রাণহানি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
গত ৪ দিন যাবত (২ জুলাই থেকে ৫ জুলাই) ডেঙ্গুতে মৃতের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়নি কোন নাম। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই। তবে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ৩ গুণ। এই সময়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তারা সবাই হামে নয়, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ৪ জন ঢাকা, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগে ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল রবিবার হামের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
হামের সার্বিক বিষয় নিয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। ১০৬টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯২৫। এই সময়ে ৮৭৮ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯০৪ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৪৫ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৩৮ শিশু মারা গেছে। ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মোট ১২ হাজার ৬৩২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৮৫ হাজার ১২২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চলতি বছর হামে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২ এপ্রিল থেকে হামের তথ্য গণমাধ্যমে পাঠাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামের উপসর্গ নিয়ে বা নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ও মৃতের তথ্য প্রকাশ করছে। তবে কোন বয়সের, কোন আর্থসামাজিক শ্রেণির মানুষ তারা, হামে আক্রান্ত হওয়ার কত দিন পর তাদের মৃত্যু হচ্ছে, মৃত্যুর আগে তাদের কোন ধরনের চিকিৎসা হয়েছিল- তার কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। এই সময়ে নতুন আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭১ জন ডেঙ্গুরোগী। এই ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৪৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৩ জন, খুলনা বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ জন রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৬ হাজার ৮৭১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬৭ জন এবং গত জুন মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। আক্রান্তদের মধ্যে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী রয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪৬৭ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪০৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
বিগত বছরগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা ছিল উল্লেখযোগ্য। এর আগে ২০২৩ সালে দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন আক্রান্ত ও ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ও মৃত্যুর সংখ্যা ৪১৩ জন।
