×

প্রথম পাতা

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, সড়কে পানি

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, সড়কে পানি

চট্টগ্রাম অফিস

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিতে গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম। এতে শুধু চট্টগ্রাম নগরীই জলাবদ্ধতার শিকার হয়নি, প্রবল বৃষ্টির পানি সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন যোগাযোগ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পানি ওঠার কারণে বৃহস্পতিবার বেশ কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ ছিল। বান্দরবানের সঙ্গেও যোগাযোগ অন্য জেলার সাথে অনেকটা বন্ধ। বিভিন্ন উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কও পানির নিচে থাকায় যোগাযোগ অনেকটা বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি উপজেলায়। সাতকানিয়া উপজেলা বন্যা পরিস্থিতিতে ত্রান ও মানুষকে উদ্ধারের জন্য ১০টি স্পিডবোট চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট পানির স্রোতের মধ্যে চট্টগ্রামের রাউজানে এক শিশু ও বোয়ালখালীতে এক তরুণ পানিতে তলিয়ে গেছে। শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তরুণের সন্ধানে নেমেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এ প্রতিবেদন লেখার সময় (সন্ধ্যা ৭টা) অব্দি তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম জানালেন, তিন বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ মোস্তাকিম উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ পারভেজের ছেলে। এদিকে বোয়ালখালী উপজেলার

শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামের ভাণ্ডালজুড়ি খালে আজ সকালে তলিয়ে যান ১৮ বছরের দিদার আলম। তার বাড়ি পূর্ব জ্যৈষ্ঠপুরা গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, করলেডেঙ্গা পাহাড়ে লিচু বাগানে কাজ করতে যাচ্ছিলেন দিদার। গ্রাম আর পাহাড়ের মাঝখানে খাল পার হতে গিয়ে পাহাড়ি ঢলের মধ্যে পড়ে তলিয়ে যায়। বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক জানালেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারিসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবন। কোনো প্রাণ যেন সামান্য অসচেতনতার কারণেও ঝরে না পড়ে। সবাইকে অনুরোধ করব, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন।’

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরো ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসংকটে না পড়েন- এমন ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়।

জেলার সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ উল্লেখ করে সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ কাজের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের জন্য আবেদন করা হয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে। যদিও সেখানে আপাতত নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্ট, কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে পৃথক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। যেকোনো দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসব দল।

এদিকে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়া হবে , কারণ জীবন বাঁচাতে হবে- এমনটাই বললেন জেলা প্রশাসক। বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য মাফিন, কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন ৩১১ পর্যটক

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন ৩১১ পর্যটক

দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ চায় এনসিপি

দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ চায় এনসিপি

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসনের সব ছুটি বাতিল

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসনের সব ছুটি বাতিল

বৃষ্টির দিনে ঘরেই তৈরি করুন পারফেক্ট খিচুড়ি

বৃষ্টির দিনে ঘরেই তৈরি করুন পারফেক্ট খিচুড়ি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App