দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ চায় এনসিপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা চারদিনের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা, ভয়াবহ পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় শিশুসহ ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় সরকারের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আটকে থাকা পর্যটক উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একদিনেই সাত শিশুর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এ অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে দলটি।
এনসিপি জানায়, টানা ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির সড়কে প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক আটকা পড়ার ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। এনসিপি অবিলম্বে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আষাঢ়ের প্রথম ২০ দিন বৃষ্টিহীন থাকার পর সাগরে লঘুচাপের কারণে এ ধরনের তীব্র ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট সংকেত। তবুও প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের মতো মানবিক বিপর্যয় রোধে যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি জানায়, চট্টগ্রামকে রক্ষা করতে হলে শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ করলেই হবে না। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে স্থায়ী পুনর্বাসনের আওতায় এনে পাহাড়ধসের মতো মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
