পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও বন্ধে নেই কার্যকর পদক্ষেপ
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে শিশু জন্মের সময় অপ্রয়োজনে অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান পদ্ধতিতে (সি-সেকশন) ডেলিভারির প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে- এমন কথা ধাত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি স্বীকার করছে খোদ সরকারও। কিন্তু এই প্রবণতা কমানোর জোড়ালো কোনো উদ্যোগ এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। তবে সম্প্রতি দেশে স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ৬ জুলাই এক অনুষ্ঠানে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম (ডেলিভারি রুম) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। মন্ত্রী বলেন, এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে। গর্ভাবস্থার শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’ এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে মানুষকে বাধ্য করার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতার বিষয়টি আরো শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তথ্য উপাত্ত যা বলছে : ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট প্রসবের ৫১ দশমিক ৮ শতাংশই এখন সিজারিয়ান পদ্ধতিতে হচ্ছে। এই হার চিকিৎসা চর্চা, সামাজিক বৈষম্য এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত দুই বছরে সন্তান জন্ম দিয়েছেন-
এমন ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৬৪ হাজার ৪০৫ জন নারীকে নিয়ে করা এই জরিপে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক প্রসবের অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।
২০১২-১৩ সালে দেশে সিজারিয়ানের হার ছিল ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ শতাংশে। আর ২০২৫ সালে এসে এই হার পৌঁছেছে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশে। মিকস প্রতিবেদনে এই প্রবণতাকে ‘উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত অস্ত্রোপচার পরিবার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সিজারিয়ানের হার শহর-গ্রাম ও অর্থনৈতিক অবস্থানভেদে ভিন্ন। শহরে এই হার ৫৬ শতাংশ, গ্রামে ৫০ শতাংশ। সবচেয়ে ধনী পরিবারের ৬৮ শতাংশ নারী সিজারিয়ানে সন্তান জন্ম দেন। চতুর্থ ধনী স্তরে এই হার ৫৭ শতাংশ, মধ্যম স্তরে ৫২ শতাংশ এবং সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারে ৩৪ শতাংশ। শিক্ষাভেদেও একই চিত্র দেখা যায়। উচ্চশিক্ষিত নারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের প্রসব সিজারিয়ানে হয়। প্রাথমিক শিক্ষা নেয়া নারীদের মধ্যে এ হার ৩৫ শতাংশ, আর যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই- তাদের মধ্যে ২৯ শতাংশ।
সিজারিয়ানের হার বাড়লেও স্বাস্থ্যগত সুফল বাড়েনি, বরং মা ও শিশুর ঝুঁকি বেড়েছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সিজারিয়ান করা উচিত নয়। বিশ্বজুড়ে সিজারিয়ানের হার বাড়লেও এর সঙ্গে স্বাস্থ্যগত সুফল বাড়েনি, বরং মা ও শিশুর ঝুঁকি বেড়েছে। ডব্লিউএইচওর মতে, জনসংখ্যাগতভাবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সিজারিয়ান হারই সবচেয়ে উপযোগী। তবে বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এই হার অনেক ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশের বেশি। এতে পরিবারকে গড়ে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের এক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সিজারিয়ান ডেলিভারির খরচ স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সিজারের হার বেড়ে যাওয়ায় পরিবার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালে প্রায় ১৭ লাখ নারী প্রয়োজন ছাড়াই সিজারিয়ান ডেলিভারির মধ্য দিয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। যার ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই বিপুলসংখ্যক সিজার মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রমাণভিত্তিক প্রসব-পদ্ধতি অনুসরণে অনীহা এবং স্বাভাবিক প্রসব নিয়ে জনমনে ভীতি- এই ৩টি কারণকে পরিস্থিতির জন্য প্রধানভাবে দায়ী মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় ও আর্থিক লাভের কারণে অপ্রয়োজনীয় সিজারের প্রবণতা বাড়ছে। তারা দ্রুত কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে মায়ের মাইক্রোবায়োম শিশুর শরীরে প্রবেশ করে, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডব্লিউএইচও’র নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রসবের প্রাথমিক বা দীর্ঘ ল্যাটেন্ট পর্যায় সিজারিয়ানের কারণ হতে পারে না, যদি মা ও শিশুর অবস্থা স্থিতিশীল থাকে। নবজাতকের প্রায় ৭০ শতাংশ মস্তিষ্কজনিত ক্ষতি প্রসবের আগেই ঘটে আর প্রসবকালীন কারণে এই হার ১০ শতাংশেরও কম।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রসূতি ও ধাত্রী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান জন্মদান একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সিজারিয়ান সেকশন প্রয়োজনীয় অপারেশন। যার মাধ্যমে মা ও শিশুর জীবন রক্ষা করা হয়। এটি কোনো নরমাল প্রক্রিয়া নয়। একটি মেজর অপারেশন। সিজারিয়ান ডেলিভারিতে প্রসূতির রক্তক্ষরণের শঙ্কা আছে। এমনকি তার শারীরিক ও মানসিক নানা ধরনের ট্রমাও হতে পারে। বহুমাত্রিক কারণে সিজারিয়ান বা সি-সেকশন বাড়ছে। স্বাভাবিক প্রসবের বিষয়ে রোগীদের কাউন্সিলিংয়ের অভাবে রয়েছে। প্রসূতি ও তার পরিবার স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। তারা সি-সেকশনকে নিরাপদ মনে করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন রোগীর জন্য একজন নার্স এবং একজন মিডওয়াইফ প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের এখানে ১০০ জনেও একজন নার্স ও মিডওয়াইফ নেই। প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি অনেক বেশি। নার্স ও মিডওয়াইফের কাজ মনিটর করা। মনিটর করার লোক না থাকায় চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিতে চান না। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বন্ধে গর্ভধারণের প্রথম দিন থেকেই মা ও শিশুর দায়িত্বশীল ফলোআপ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু দেশের প্রায় ৫০ ভাগ প্রসূতি গর্ভকালীন ঠিকমতো চেকআপ করেন না। এতে নানা জটিলতা তৈরি হয়। তাই সি-সেকশন করাতে চিকিৎসকও বাধ্য হন।
তথ্য বলছে, বেশিরভাগ সিজারিয়ান হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। মোট প্রসবের ৮৪ শতাংশই হয় বেসরকারিতে। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, শিগগিরই তা ৯০ শতাংশ ছাড়াবে। অভিযোগ রয়েছে, এখানে আর্থিক প্রণোদনাই বড় কারণ। স্বাভাবিক প্রসবে বেশি সময়, যতœ ও পর্যবেক্ষণ লাগে। অন্যদিকে সিজারিয়ান দ্রুত শেষ করা যায় এবং লাভও বেশি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত প্রয়োজন না থাকলেও মায়েদের অপারেশনের দিকে ঠেলে দেয়া হয়।
পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল জানান, বেসরকারি হাসপাতালে সি-সেকশনের হার সবচেয়ে বেশি। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রসূতিদের সি-সেকশন করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে সরকারি নজরদারি নেই বললেই চলে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। ফলে বছর বছর সি-সেকশন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সি-সেকশন বাড়ার এই হার ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক।
অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকলিজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা সবসময় স্বাভাবিক প্রসবকেই অগ্রাধিকার দিই। কেবল চিকিৎসাগত জটিলতা দেখা দিলেই সিজারিয়ান পরামর্শ দিই। অনেক রোগী জানেন না কখন সিজারিয়ান জরুরি এবং কখন স্বাভাবিক প্রসবই নিরাপদ। আবার কেউ কেউ প্রসববেদনার ভয়ে শুরু থেকেই সিজারিয়ান চান। কখনো কখনো জীবন-মরণ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে তাৎক্ষণিক অপারেশন ছাড়া উপায়ও থাকে না।
সিজারিয়ানের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে এই প্রখ্যাত ধাত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, সিজারিয়ান একদিনের ঘটনা নয়। এটি একজন মায়ের সারা জীবনের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে মা ও পরিবারকে সচেতন হতে হবে। চিকিৎসককেও বিষয়টি রোগীর স্বজনদের বুঝিয়ে বলতে হবে।
তোয়াক্কা নেই নীতিমালার
এদিকে ২০১৯ সালে প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা দানকারী সরকারি ও বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসক কর্তৃক অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করে। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৩ সালে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন বন্ধের নীতিমালাগুলোকে আইনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জনসচেতনতা তৈরিতে নীতিমালাগুলো আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি নীতিমালা তৈরি করে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।
ওই নীতিমালায় বলা হয়, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি- এ ৩টি মেয়াদে বিভক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমে বিদ্যমান যে আইনি কাঠামো রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা। জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রচারণামূলক কার্যক্রম নেয়া। স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে নরমাল ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা। চিকিৎসকদের নৈতিক মানদণ্ড সমুন্নতকরণ বা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত কাউন্সিলিং করা ও প্রশিক্ষণ দেয়া। মেডিকেল ডিফেন্স ইউনিট গঠনের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তথ্য সংরক্ষণ ও রেকর্ডিংয়ের দায়বদ্ধতা ও তদারকীকরণ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সূচক ঠিক কোন কোন শারীরিক পরিস্থিতিতে সিজারিয়ান করা যাবে, তার উল্লেখ রয়েছে। ইলেকটিভ সিজারিয়ানের ক্ষেত্রে রোগীকে সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে তার সম্মতি নিতে হবে; অন্যথায় অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আদায়কৃত সম্মতি আইনের দৃষ্টিতে কোনো রূপ গ্রহণযোগ্যতা পাবে না এবং তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এছাড়াও নীতিমালাটি সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে প্রচারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ব্রাজিল ও চীনে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের ভয়াবহ চিত্র ছিল। কিন্তু যথাযথ নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তারা সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের এ অসম হার নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করে ও জবাবদিহি নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের হার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
