পানিবন্দি অর্ধলাখ লামায় পাহাড় ধসে প্রাণ গেল ৫ জনের
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
টানা ভারী বর্ষণের কারণে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় একই এলাকার পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।
আজিজনগর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোবারক হোসেন এই খবর নিশ্চিত করে জানান, পাহাড় ধসে মাটির দেয়াল ও ইটের দেয়াল চাপা পড়ে দুই পরিবারের শিশুসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ভোর রাত ৪টার দিকে। ওই সময় পাহাড় ধসে বসতঘরের ওপর মাটি এসে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের মো.
ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান মাটিচাপা পড়ে মারা যান। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকার আরেকটি পাহাড় ধসে একতলা পাকা ঘরের দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।
স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। মাটিচাপা পড়া অবস্থা থেকে একে একে ৫ জনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি উজানের ঢলে লামা উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অর্ধলাখ মানুষ। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র লামা বাজারসহ বিভিন্ন সড়ক ও নি¤œাঞ্চল। ফলে লামা পৌর এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের ঢলে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন জানান, পাহাড় ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁঁকি বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনো সেখানে যেতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুত সংযোগ ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়াতে যোগাযোগ ব্যাহত।
