×

প্রথম পাতা

জীবনযাত্রায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, সেচ পাম্পও অচল

Icon

দেব দুলাল মিত্র

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জীবনযাত্রায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, সেচ পাম্পও অচল

অতিরিক্ত গরমে লোডশেডিংয়ে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। আবার বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণেও অনেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেচ পাম্প ও ক্ষুদ্র শিল্প উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ভুক্তভোগী মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিজস্ব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকার পরও ভোলায় লোডশেডিং কমছে না। দিনাজপুরে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই এলাকার বাসিন্দারা। খুলনায় পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ। ঝালকাঠিতে তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জানা গেছে, দ্বীপ জেলা ভোলায় নিজস্ব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এখানে কোনো লোডশেডিং হওয়ার কথা না। কিন্তু তারপরও জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমের মধ্যেই ভোলা ও দৌলতখানের বাসিন্দারা তীব্র লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এরফলে ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছেন না, এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছেন না। পাশাপাশি কর্মমূখী মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ভোগান্তি বেড়েছে।

জুন মাসের শুরু থেকেই ময়মনসিংহের ভালুকায় স্মরণকালের ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণে শহর ও গ্রামের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দিনে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মাইলের পর মাইল অন্ধকারে ছেয়ে থাকছে। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গরমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুদ্র শিল্প বসে যাওয়ার উপক্রম। কুটিরশিল্প, সুইটস এন্ড বেকারি, ওয়ার্কশপ, রাইস মিল, করাতকল বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ করেও অবস্থান কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

পল্লি বিদ্যুতের কর্মকর্তারা বলছেন, এই এলাকায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকের কম। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ বেশি পাওয়া গেলে গ্রাহকদেরও বেশি সবরাহ করা হবে। এলাকায় ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলায় ১৬০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট।

অপরদিকে পিডিবির ভালুকা কার্যালয়ের অধীনে প্রতিদিন ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১০ থেকে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পিডিবি ও পল্লি বিদ্যুৎ- উভয় প্রতিষ্ঠানেই ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ।

ঝালকাঠিতে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন করেছে। গত ২৮ জুন বেলা ১১টায় ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে জেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানানো হয়। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘ঝালকাঠি মানব কল্যাণ সোসাইটি’ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝালকাঠি জেলাজুড়ে একনাগারে লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানও কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে। এরপাশাপাশি বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি, নানা প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দ্রুত সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তীব্র লোডশেডিংয়ে দিনাজপুরের হাকিমপুর, হিলি এলাকার মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ অফিস থেকে বলা হচ্ছে, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতাল ও জরুরি সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রমও।

হিলি পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের দেয়া তথ্যমতে, এই উপজেলায় প্রায় ৩৮ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। তবে উৎপাদন ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই দীর্ঘ সময় ধরে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে

হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অব্যাহত থাকে। লোডশেডিংয়ের প্রভাবে এইচএসসি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। আবার স্কুলগুলোতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। তারা কেউই বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ভ্যানচালকেরা বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারি চার্জ না করতে পেরে। ফলে তাদের কর্মঘণ্টা ও আয় কমে গেছে।

বন্দরনগরী খুলনাতেও লোডশেডিংয়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। খুলনা সদর, দাকোপসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দাকোপের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। তাপের সঙ্গেই বেড়েছে লোডশেডিং। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। সব কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। ব্যস্ত এই জেলায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইক চালকরা বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ি চার্জ করতে পারছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজের মাছ, মাংস ও পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া তীব্র গরমে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেটের পীড়া ও জ্বর নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, জানা যাবে যেভাবে

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, জানা যাবে যেভাবে

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে ভাসছে রাঙ্গামাটি, ৫ উপজেলা জলমগ্ন

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে ভাসছে রাঙ্গামাটি, ৫ উপজেলা জলমগ্ন

কাতারের সাবেক আমির আর নেই

কাতারের সাবেক আমির আর নেই

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App