সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
স্নায়ুরুদ্ধকর যুদ্ধ, মাঠজুড়ে উত্তেজনা, আর শেষমেশ বিশ্বমঞ্চে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় হুংকার! ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে এক্সট্রা টাইমে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা! হ্যাঁ, ম্যাচটা ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হলেও, অতিরিক্ত সময়ে সুইস দেয়াল গুঁড়িয়ে শেষ হাসি হেসেছে স্কালোনির শিষ্যরাই।
ম্যাচের শুরু থেকেই আকাশী-সাদাদের আক্রমণ ছিল দেখার মতো। মাত্র ১০ মিনিটেই ম্যাজিশিয়ান লিওনেল মেসির পিন-পয়েন্ট কর্নার কিক থেকে উড়ে এসে অসাধারণ এক হেডে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন আলেক্সিস মাক আলিস্তের! ১-০ তে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ তখন পুরো আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় সুইসদের ডিফেন্স নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে লা আলবিসেলেস্তে।
কিন্তু লড়াইটা যখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, তখন নাটক তো থাকবেই। দ্বিতীয় বাধে ঘুরে দাঁড়ায় সুইজারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের গোলে ১-১ সমতায় ফেরে তারা। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে এর ঠিক পরেই। সুইস ফরোয়ার্ড ব্রেল এমবোলো আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জের মুখে মাঠে নাটকীয়ভাবে ডাইভ দেন। কিন্তু ভিএআর এবং রেফারির তীক্ষ্ণ চোখকে ফাঁকি দেওয়া কি এতই সহজ? ফাউলের 'অ্যাক্টিং' বা সিমুলেশন ধরা পড়ায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, অর্থাৎ লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন! ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর সেখানেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার আসল তান্ডব। ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে চেপে ধরে একের পর এক আক্রমণ। অবশেষে ১১২ মিনিটে স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে গোল করেন 'স্পাইডার' হুলিয়ান আলভারেস! গ্যালারিতে তখন আনন্দের সুনামি। এখানেই শেষ নয়, ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ১২০ মিনিটে সুইসদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন লাউতারো মার্তিনেস! ৩-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
কোটি কোটি ভক্তের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখে আর্জেন্টিনা এখন সেমিফাইনালে, যেখানে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের। সুইসদের অ্যাক্টিং ড্রামা কিংবা রক্ষণাত্মক কৌশল—কোনো কিছুই আটকাতে পারলো না বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জয়রথ। এই আর্জেন্টিনা জানে কীভাবে জিততে হয়, কীভাবে কোটি ভক্তের মুখে হাসি ফোটাতে হয়।
