পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী বাড়ছে, মাদ্রাসা বোর্ডে বেশি
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারাদেশে গত ২ জুলাই শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। গতকাল রবিবার পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৫টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আর এই তথ্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিদেশের ৮টি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত নয়। এ পর্যন্ত পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির হার আশঙ্কাজনক। বিশেষ করে মাদ্রাসা বোর্ডে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির যে হার, তা সত্যিকার অর্থেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে; এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫টি পরীক্ষায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১১ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। আর বহিষ্কার হয়েছে ১৯৬ জন শিক্ষার্থী।
কোন বোর্ডের কোন পরীক্ষায় মোট শিক্ষার্থী ও অনুপস্থিতির হার কত? : বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রথম দিন মোট শিক্ষার্থী ছিল ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন। প্রথম দিনই অনুপস্থিত ছিল ১৭ হাজার ২৩৩ জন শিক্ষার্থী। শতকরা হিসাবে অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক শূন্য ১। মাদ্রাসা বোর্ডে ওই দিন কুরআন মজিদ পরীক্ষায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজার ১৩১ জন। তবে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৮০ হাজার ৬৫৩ জন, অনুপস্থিত ছিল ৪ হাজার ৪৭৮ জন। অনুপস্থিতির হার ৫ দশমিক ২৬। এছাড়া কারিগরি বোর্ডে ওই দিন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষায় ৮৩ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮০ হাজার ৬০৩ জন। সেই হিসাবে অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৭৩ জন শিক্ষার্থী। শতকরা হিসাবে এই হার
৩ দশমিক ৬৭।
দ্বিতীয় দিন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ জন। সেই হিসাবে অনুপস্থিত ছিল ১৯ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী। শতকরা হিসাবে অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ২৮। মাদ্রাসা বোর্ডে আরবি ১ম (সাধারণ বিভাগ) আরবি সাহিত্য (বিজ্ঞান ও মুজাব্বিদ মহির) পরীক্ষায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৪ হাজার ২৯৩ জন। তবে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৭৯ হাজার ৯১ জন, অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ২০২ জন। অনুপস্থিতির হার ৬ দশমিক ১৭। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ৮৫ হাজার ৪৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮৩ হাজার ২৬৩ জন। সেই হিসাবে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৪৮৬ জন শিক্ষার্থী। শতকরা হিসাবে অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৯০। ৩য় দিন ৬ জুলাই সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইংরেজি ১ম পত্র পরীক্ষা। পরীক্ষায় ৯ লাখ ৯৭ হাজার ২১ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৭ জন। অনুপস্থিত ছিল ২৫ হাজার ৩৪ জন। শতকরা হিসাবে অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৯৮। মাদ্রাসা বোর্ডে ওই দিন বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ৩৩৩ জন। তবে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৭৮ হাজার ১৮১ জন, অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ১৫২ জন। অনুপস্থিতির হার ৬ দশমিক ১৮। এছাড়া কারিগরি বিভাগে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-২ পরীক্ষায় ৮৩ হাজার ৭৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৮০ হাজার ৮৩৩ জন। সেই হিসাবে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৪৩৯ জন শিক্ষার্থী। শতকরা হিসাবে এই হার ৩ দশমিক ৫১। ৮ জুলাই সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষায় সাধারণ বোর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ৬ হাজার ৯২৩ জন, পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৮ জন। অনুপস্থিত ছিল ২৩ হাজার ৭৩৫ জন। শতকরা হার ২ দশমিক ৬২ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষায় ৭৪ হাজার ৭৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৬৯ হাজার ৮১৭ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৯৫৮ জন। শতকরা হিসাবে ৬ দশমিক ৬৩। কারিগরি বোর্ডের বিজনেস ইংলিশ অ্যান্ড কমিউনিকেশন ও পদার্থবিজ্ঞান-২ পত্র পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ছিল ৮১ হাজার ১৩১ জন, অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩১৫ জন অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৮১৬ জন। শতকরা এই হার ৩ দশমিক ৪৭।
আর গতকাল ১১ জুলাই সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষায় ৮ লাখ ২৪ হাজার ১৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮ লাখ ৩ হাজার ৩৪৫ জন। অনুপস্থিতি ছিল ২০ হাজার ৭৯২ জন, শতকরা হার ২ দশমিক ৫২। মাদ্রাসা বোর্ডে ইংরেজি ১ম পত্রে ৭৫ হাজার ১১৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ হাজার ৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ১০৯ শিক্ষার্থী শতকরা হিসাবে ৬ দশমিক ৮০। কারিগরি বোর্ডের হিসাব বিজ্ঞান নীতি ও প্রয়োগ-২, রসায়ন ও অর্থনীতি পরীক্ষায় ৮৬ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৩ হাজার ৪৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ২৬১ জন, শতকরা হার ৩ দশমিক ৭৬।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) মাধ্যমিক বা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। গত বছর নিবন্ধিত সোয়া ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চিত্র আরো উদ্বেগজনক। এ বছর এই বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি পরীক্ষার জন্য ফরমই পূরণ করেননি। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ইদানীং পাবলিক পরীক্ষায় ফরম পূরণ করার পরেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী বাড়ছে।
শিক্ষামন্ত্রীর উদ্বেগ, কারণ অনুসন্ধানে বোর্ড
নিবন্ধন করেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এইচএসসিতে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে স¤প্রতি এক অনুষ্ঠানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর কারণ খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর ড. আ ন ম নির্দেশে গত রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. কে এম এ এম সোহেলের সভাপতিত্বে সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সরাসরি ও জুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়।
অধ্যাপক ড. কে এম এ এম সোহেল জানান, গত অধিদপ্তরে সব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ৯টি সাধারণসহ মোট ১১টি শিক্ষাবোর্ডের শহর ও গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে দৈব চয়নের ভিত্তিতে সারাদেশের মোট ২৬০টি প্রতিষ্ঠান এই গবেষণার আওতাভুক্ত হবে। আগামী সপ্তাহে এই গবেষণা শুরু হতে পারে। ঝরে পড়া পরীক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হবে। শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারও গবেষণায় অংশ নেবেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু)।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
শুধু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকাই নয়, পরীক্ষার প্রথম দিন অংশ নিয়েও অনেকে দ্বিতীয় বিষয়ে আর আসেনি। এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার কারণ কী, তা তলিয়ে দেখতে হবে। গত দুই বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের নজরদারি কিংবা পর্যবেক্ষণের ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র কয়েক বছর আগে করোনার আঘাতে আমাদের শিক্ষার্থীদের মাথায় বড় ধাক্কা লেগেছিল। সেই ক্ষতি নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তখনো সময় হারিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের পরও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সরকার কিংবা সংশ্লিষ্টরা একইভাবে বেখেয়াল ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। ফলে রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা বেড়েছে এবং তাদের কাছে শিক্ষা গৌণ হয়ে পড়েছে। এখানে অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ও থাকতে পারে। একজন অভিভাবক যখন দেখেন, তার সন্তানের রাজনীতি করাটা অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক, তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি সন্তানের শিক্ষার বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেন না। শুধু রাজনীতিই নয়, একটি প্রজন্মের ওপর আঘাত হিসেবে আর্থসামাজিক অব্যবস্থাও বড় ধরনের ক্ষতি করেছে।
এ বিষয়ে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আগে মূলত মেয়েরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে ঝরে পড়ত। কিন্তু এখন ছেলেরাও উদ্বেগজনক হারে শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। কেউ কিশোর অপরাধে জড়াচ্ছে, কেউবা অনিশ্চিত কর্মসংস্থানে। এই অন্ধকার থেকে তরুণদের ফেরাতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।
কলেজে ভর্তি হওয়ার পরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার পেছনে ৩টি প্রধান সংকটকে দায়ী করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তার মতে, সা¤প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি এবং অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতাই শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষাবিমুখতার মূল কারণ।
সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের প্রভাবে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেনি। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেছেন। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুস্থ ও আন্তরিক সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অভিভাবকদের দায়িত্বও কম নয়। কলেজে ভর্তি করানোর পর দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সন্তান নিয়মিত ক্লাস করছে কিনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা, এসব বিষয়ে পরিবারকে আরো সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে শিক্ষাবিদ ড. কামরুল আহসান বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষায় বরাদ্দও বেড়েছে এবং শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
