জিম্বাবুয়ে সফর
ব্যাটিং ব্যর্থতায় টাইগারদের হার
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফরের হতাশা যেন কাটছেই না। টেস্টে সিরিজ হার, ওয়ানডেতে পরাজয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজও শুরু হলো হার দিয়ে। বুলাওয়েতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ৩২ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
স্কোরকার্ডে ৩২ রানের হার দেখা গেলেও ম্যাচের গল্পটা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার। শুরু থেকেই টপ অর্ডারের ভাঙন, মাঝে ইয়াসির আলীর লড়াই আর শেষ দিকে অবিশ্বাস্য ধস- সব মিলিয়ে জয়ের সম্ভাবনা নিজেরাই নষ্ট করেছে সফরকারীরা। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ২২ রান তুলতেই ফিরে যান দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। দুজনই বাউন্সার সামলাতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর দলের ওপর চাপ আরো বাড়ে।
এরপরও কিছুটা আশা জাগান ইয়াসির আলী ও অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ৩৯ রানের জুটি গড়ে তারা ইনিংসকে কিছুটা স্থিতি দেন। হৃদয় ১৩ বলে ১৪ রান করে বিদায় নিলেও ইয়াসির একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। তিন বছর পর জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি একাদশে ফিরে দুর্দান্ত অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।
একসময় সমীকরণ নেমে এসেছিল শেষ তিন ওভারে ৪১ রান। হাতে তখনো ছিল পাঁচ উইকেট। ম্যাচ তখনো বাংলাদেশের নাগালের বাইরে ছিল না। কিন্তু সেখান থেকেই ঘটে অবিশ্বাস্য ধস। মাত্র ৮ রান যোগ করতেই শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে ৩২ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।
এর আগে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য মোটেই সুখকর ছিল না। ব্রায়ান বেনেট ও মারুমানি ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই ৫৪ রান তুলে জিম্বাবুয়েকে দারুণ ভিত্তি এনে দেন। প্রথম তিন ওভারেই ৩৮ রান তুলে স্বাগতিকরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। চাপের মুখে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন নাহিদ রানা। নিজের প্রথম ওভারেই মাত্র ১ রান দিয়ে মারুমানিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর সাইফ উদ্দিন তুলে নেন ডিওন মায়ার্সের উইকেট। তবে বেনেট ৩০ বলে ৪৪ রান করে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ভিত আরো শক্ত করেন।
ইনিংসের শেষ ভাগে নাহিদ রানা দুর্দান্ত বোলিং করেন। ১৮তম ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহের পথে লাগাম টানেন এই গতিতারকা। শেষ পর্যন্ত চার ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে চার উইকেট শিকার করেন তিনি। সাইফ উদ্দিন নেন দুটি উইকেট। তবু রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্সের কার্যকর ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ১৭০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের বোলাররা শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ব্যাটাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ইয়াসির আলীর একক লড়াই ছাড়া দায়িত্বশীল ইনিংস দেখা যায়নি কারো ব্যাটে। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, চাপের মুহূর্তে শট নির্বাচনের ভুল এবং শেষ তিন ওভারে পাঁচ উইকেট হারানোর ঘটনাই বাংলাদেশের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই হারে টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ। এখন সিরিজে টিকে থাকতে হলে পরশু দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের বিকল্প থাকবে না হৃদয়দের।
