দাবি পূরণ না হলে আজ সড়কে অবরোধ কর্মসূচি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে মঙ্গলবার দিনভর নানা নাটকীয়তা, বিভিন্ন স্থানে সড়ক আটকে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠলেও কোনো সমাধান আসেনি। ঢাকাসহ দেশের অন্তত ৩০ জেলায় রাজপথে নামেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের বেশ কিছু দাবি পূরণ হলেও গতকাল বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। ফলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপশি গতকাল পরীক্ষায় বসেছিল শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টায় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে ব্যস্ত ছিল শিক্ষার্থীরা। আর সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। অনান্য দিনের চেয়ে গতকাল পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল অনেকটাই বেশি। তাদের উদ্দেশ্য একটাই পরীক্ষা শেষে সন্তানকে সঙ্গে করে বাসায় ফিরবেন। অভিভাবকদের কেউ গাছের ছায়ায়, কেউ ফুটপাতে, আবার কেউ কেন্দ্রের ফটকের আশপাশে অপেক্ষা করছিলেন। অনেকের মুখেই ছিল উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার ছাপ। কারণ, পরীক্ষা শেষে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি এই সতর্কতা দেখা যায়।
সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন অভিভাবক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি দেখে ছেলেমেয়েদের একা পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না। আজ পরীক্ষা শেষে মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই বাসায় ফিরব। আরেক অভিভাবক মো. রফিকুল আলম বলেন, পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে হোক, সেটাই চাই। তবে পরীক্ষা শেষে কোনো কর্মসূচি থাকলে সন্তান যেন কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে, সে জন্যই কেন্দ্রে অপেক্ষা করছি।
অভিভাবক কাদের হোসেন বলেন, সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার সময় কেন্দ্রে আসি। কিন্তু আজ (বুধবার) পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই এখানে আছি। ছেলে পরীক্ষা শেষ করে বের হলেই তাকে নিয়ে বাসায় চলে যাব।
প্রসঙ্গত; গতকাল ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে রাজধানীর সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশ্নপত্র আজকে খুবই সহজ হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার প্রশ্ন বেশি সহজ হয়েছে। বন্ধুদের কাছে শুনলাম ওদের পদার্থবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নও ভালো হয়েছে। সবাই পরীক্ষায় লিখে খুশি। তবে সোমবার বৃষ্টি-বন্যার মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী যে অন্যায় করেছেন, তাতে আমরা ছাড় দেব না। মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। এ দাবি আদায় করেই আমরা ফিরব।
শেখ বেরহান উদ্দিন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী একের পর এক বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সারাদিন কীভাবে পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের টাইট দেয়া যায়, তা নিয়ে বক্তব্য দেন। আমরা যে গত ৮ জুলাইয়ের পর থেকে বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যাচ্ছি-আসছি, অসুস্থ হচ্ছি, সেসব দিকে তার নজর নেই। উনার লক্ষ্য তাড়াতাড়ি পরীক্ষা শেষ করা। তাতে তিনি ক্রেডিট পাবেন। এমন ক্রেডিটবাজ মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমরা আন্দোলন বন্ধ করব না। পরীক্ষা শেষে এই দুই শিক্ষার্থী পূর্বঘোষিত লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
আন্দোলনে অংশ নেয়া বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী আফ্রেদী বলেন, আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম, বুধবার পরীক্ষা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লং মার্চ করব। আমাদের দাবি এখনো মানা হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল পরীক্ষা শেষে বেলা ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচি ?শুরু করেন। তারা প্রথমে সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হন। সেখান থেকে শিক্ষাভবন ও পরে সচিবালয়ের দিকে রওনা দেয়। তবে শিক্ষাভবনের সামনে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মিছিলের সামনে ও পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা সরে গেলে সায়েন্সল্যাব, মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও শাহবাগমুখী সড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গতকালও উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, মিরপুর-১০ গোলচত্বর এবং ইসিবি চত্বরে সড়ক অবরোধ করেন। এছাড়া চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলাতেও আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।
মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি বাদ, ৬ দফা দাবি : এদিকে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে ৬ জন প্রতিনিধিকে সচিবালয়ে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়। ওই সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ৬ দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৬ জন প্রতিনিধি।
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে; যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে; প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে; চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে এবং পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত না হয় বা মানসিক চাপে না পড়ে।
এর আগে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন করলেও সচিবালয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধি দলের দাবির তালিকায় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি রাখা হয়নি।
শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের দেড় ঘণ্টা অবরোধ; যেতে পারেনি সচিবালয়ের সামনে : শিক্ষা ভবনের সামনে দেড় ঘণ্টা অবরোধের পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সড়ক ত্যাগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সড়ক ছাড়ার পর শিক্ষা ভবন ও সচিবালয়ের সামনের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল বিকাল পৌনে ৪টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছেন। এ সময় সেখানে তারা পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়েন।
শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলোচনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসেননি। শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধিও এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাননি। পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সড়কের অবস্থান ছাড়েন।
শিক্ষা ভবনের সামনে অবরোধ শেষে সচিবালয়ের অভিমুখে যাত্রা করার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মিছিলটি শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
এদিকে পরীক্ষার্থীদের সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সম্ভাব্য যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচিবালয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। দুপুরে সচিবালয়ের ১ নম্বর, ২ নম্বর ও ৫ নম্বর গেট ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ সময়ের তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো কঠোর করা হয়েছে। প্রতিটি গেটে অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান নেয়। প্রবেশকারীদের পরিচয়পত্র যাচাই ও তল্লাশি জোরদার ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা প্রধানমন্ত্রী এখানে অফিস করেন। এখানকার কোনো বিষয়কে আমরা ছোট করে দেখি না। যার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সড়কটিকে বন্ধ করে দিয়েছি। ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় হীনতায় পরবর্তীতে নিজেরাই সড়ক ছেড়ে চলে যায়। এরপর আমরা সড়কে দেয়া ব?্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেই।
এই আন্দোলনে ছাত্র ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই আন্দোলন ছাত্ররা বা অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা সেটা আমরা যাচাই করতে পারিনি। তথ্য প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।
সন্ধ্যায় শাহবাগ সড়ক অবরোধ; সাধারণ মানুষের ভোগান্তি : গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে রাজধানীর শাহবাগের সড়ক। এর ফলে শাহবাগ মোড় হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আন্দোলনকারীদের একজন সাকিব হাসান বলেন, আমাদের কর্মসূচি ছিল ‘লং মার্চ টু সচিবালয়’। কিন্তু সেখানে আমাদের বাধা দিলে আমরা শাহবাগে চলে আসি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সরবো না।
শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ আল আমিন বলেন, একদল শিক্ষার্থী সচিবালয় থেকে শাহবাগে মিছিল নিয়ে এসে অবস্থান নিয়েছে। এ সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল বলে তিনি জানান।
বুধবার রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে শাহবাগে অবরোধ শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় গতকাল রাতের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আজ বৃহস্পতিবারও সড়ক অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি সম্পর্কে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ বলেন, আমাদের দাবি একটাই, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। বুধবার রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে লং মার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি পালন করব। এদিকে যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।
সংসদে শিক্ষামন্ত্রী- অংশ নিতে না পারাদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর : গতকাল জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে তাদের এই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে যে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল, সে দুটিতে পূর্ণ নম্বর দেয়া হবে। যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ দেয়া হলো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। স¤প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৫টি জেলা তথা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেয়া হবে।
