×

প্রথম পাতা

বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল

Icon

হরলাল রায় সাগর

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূল ও ছাত্র রাজনীতি থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর এখান থেকে তিনি এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চূড়ার পথে। মন্ত্রী, নেতা থেকে রাষ্ট্রপতির মুকুট পরে তিনি যাচ্ছেন ‘মহামান্য’ হয়ে বঙ্গভবনে। অভাবনীয় কিছু না ঘটলে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনিই জয়লাভ করবেন, তা নিশ্চিত। আসীন হবে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে। লিখিত হবে তার জীবনের নতুন মহাকাব্য।

আটাত্তর বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও এগিয়েছেন তিনি। ছাত্রজীবনে বামপন্থায় আস্থা রাখা মির্জা ফখরুল টানা দেড় দশক ধরে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্রাম আর উনসত্তর ও নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ তিনটি অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতায় ?ঋদ্ধ মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি যেন তার ত্যাগের স্বীকৃতিই দিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দলের মহাসচিব ও মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। গতকালই তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। রাষ্ট্রপতি পদে তার এই মনোনয়ন দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবনের নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির দুর্দিনে যেভাবে দলকে আগলে রেখেছেন, দলের পতাকাকে উড্ডীন রেখেছেন, সেজন্য তিনি রাষ্ট্রপতির আসনে বসার সম্মান পেতেই পারেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব

পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মেয়াদের ২১ মাস বাকি থাকতেই গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে আর ৫ দিন পরে, ২০ আগস্ট।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এসময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন নির্বাচনী কর্তা ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বেলা ২টায় সংসদ সদস্যের বৈঠক ডেকেছেন।

সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।

সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে।

মনোনয়নপত্র জমা : গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি। দুপুর আড়াইটায় মনোনয়নপত্র নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান; দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ একটি প্রতিনিধি দল। মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এসময় ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষণা ও বিবৃতিসহ মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, সই সম্বলিত মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল; দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে একই ব্যক্তির নামে। দুটি মনোনয়নপত্রেরই প্রস্তাবক বিএনপির নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান এবং সমর্থনকারী হলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এর আগে ১২টার দিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্বাচনের জন্য সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করেন দলীয়প্রধান। এর পরই বর্তমান দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। বৈঠক শেষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ব্রিফিংয়ে বলেন, বিএনপির পক্ষ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এর আগে গত ১ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেয়া হয়।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে : মির্জা ফখরুল শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে নামেন চার দশক আগে। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারে বেছে নেন এক সংগ্রামী জীবন। তিনি প্রাথমিকের কৃতি শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁওয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি বাম ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৬০ এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে সে সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ১৯৭২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপপরিচালক পদে এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।

মির্জা ফখরুল জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপে। সেখান থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ১৯৯০ সালে যোগদান করেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তারপর ধাপে ধাপে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন।

২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন কৃষক ফ্রন্ট থেকে আসা এই নেতা।

বিএনপির নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে আসার আগে মির্জা ফখরুল দলটির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

রাজনীতির এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোকাবিলা করেছেন এক-এগারোর পটপরিবর্তন-পরবর্তী প্রতিকূলতা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়া বিএনপিকেও অসীম ধৈর্যে সংগ্রামে অটল রেখেছেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে লন্ডন চলে যান, সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে মাঠ সামলেছেন মির্জা ফখরুল। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। বহু মামলা লড়ার পাশাপাশি তাকে তিন দফা কারাগারেও যেতে হয়েছে।

দলের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সংকটে হাল ধরে থাকা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে কার্যত দলটির মূল নেতৃত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল। দলের নীতি-নির্ধারণ ও সার্বিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কঠিন সময়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখা এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

রাজনীতির মাঠ থেকে সরকারে : বিএনপিতে যোগ দেয়ার প্রায় এক দশক পর ২০০১ সালে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত সরকারে কৃষি এবং বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ এবং বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সারাদেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সংসদে যাননি তিনি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিই তার।

পারিবারিক ও ব্যক্তি জীবন : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িতে। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন। বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের দুইবারের সদস্য এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন। দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাদের সংসার।

বড় মেয়ে শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং এ প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

তাদের চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। তিনি জিয়াউর রহমানের সরকারে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ছিলেন। মির্জা হাফিজ ১৯৭৯ সালে ঢাকার একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মির্জা আলমগীরের আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের এপ্রিলে গঠিত মুজিবনগর সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা তদারকির জন্য নবগঠিত যুব শিবির অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছিল।

ভোটাভুটি ফের : ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক সই থাকতে হয়।

মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের স্থান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়। আর ভোট হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।

বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী একজন হলে নির্বাচন কমিশন তাকেই বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে ভোট হবে।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হচ্ছে এবার।

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র এদিনই জমা দিয়েছে বিরোধী জামায়াত জোট।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

‘ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়’

‘ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়’

‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’

‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’

জুমার নামাজে এক রাকাত ছুটে গেলে কী করণীয়

জুমার নামাজে এক রাকাত ছুটে গেলে কী করণীয়

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App