×

প্রথম পাতা

বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া বিজয়

অজিদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে ৪২৬ বাংলাদেশের, ৯ উইকেটে ইতিহাস গড়া জয়

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া বিজয়

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে গিয়েই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইনে বিশ্ব টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম দিন থেকেই দাপট দেখানো বাংলাদেশ সাড়ে তিন দিনের লড়াইয়ে একবারের জন্যও অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই স্বাগতিকদের ছাপিয়ে গিয়ে পাওয়া এই জয়কে অধিনায়ক শান্ত বলেছেন, ‘যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।’

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবালের ফোনে ভিডিও কলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অধিনায়ক নাজমুল জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থারও খোঁজখবর নিয়েছেন। এই জয়ে দেশের মানুষ আনন্দিত হওয়ায় ক্রিকেটাররাও খুশি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

ডারউইনে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার ভিত তৈরি হয় প্রথম দিনেই। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশের পেসাররা। সেখান থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে সফরকারীদের হাতে। জবাবে ব্যাট হাতে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান। মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমসহ অন্য ব্যাটারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে ম্যাচের চালকের আসনে বসে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান শূন্য রানে ফিরে গেলেও সেটিই ছিল বাংলাদেশের একমাত্র হোঁচট। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক ঠাণ্ডা মাথায় বাকি পথ পাড়ি দেন। ১৪.২ ওভারে ৫৭ রান তুলে ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। মুমিনুলের বাউন্ডারিতেই আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের আধিপত্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ, ১১টি সেশনের একটিতেও অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে থাকতে পারেনি। প্রথম দিন থেকে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়েই বাংলাদেশ ছিল নিয়ন্ত্রণে। এমনকি দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু সেঞ্চুরিও স্বাগতিকদের বড় পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসিয়ে দিয়ে ৫ উইকেট নেয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১১ রানে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান তিনি। দেশের বাইরে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এটি অন্যতম সেরা পেস বোলিং পারফরম্যান্স।

মেহেদী হাসান মিরাজও ছিলেন জয়ের আরেক বড় নায়ক। প্রথম

ইনিংসে ব্যাট হাতে ৬৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন তিনি। অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন পাঁচ উইকেটের কীর্তি অনেক কিংবদন্তি স্পিনারেরও নেই।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে গ্রিন এক প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি করেন। মিচেল স্টার্কও কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ দ্বিতীয় নতুন বলে আঘাত হানার পর আর দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের গুরুত্বপূর্ণ স্পেলে গ্রিনকেও ফিরিয়ে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মিরাজ নাথান লায়নকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি টেস্ট জয় নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এশিয়ার দলগুলোর সাফল্যের ইতিহাসেও বড় সংযোজন। শ্রীলঙ্কা এখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি। পাকিস্তান সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জিতেছিল। চলতি শতাব্দীতে ভারত ছাড়া আর কোনো এশীয় দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে টেস্টে হারাতে পারেনি। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্তর কণ্ঠেও ফুটে ওঠে জয়ের মাহাত্ম্য। তিনি বলেন, এটাই এখন পর্যন্ত যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা ভবিষ্যতে আরো বিশেষ কিছু করতে চাই। নিজের ৮৪ রানের ইনিংস নিয়েও সন্তুষ্ট বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে পুরো দল যেভাবে খেলেছে, তাতেও গর্বিত তিনি।

এই সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের উন্নতিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তার মতে, কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট খেলার আগ্রহ এতটা ছিল না। এখন তারা টেস্টকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, নিয়মিত খেলতে চাইছেন এবং বিশ্বমানের হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। সিনিয়র ক্রিকেটারদের উৎসাহও এই পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।

ঐতিহাসিক জয়ের পর অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছে বাংলাদেশ দল। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিসিবি সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিকেটারদের ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উচ্ছ¡াস। ডারউইনের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটকে নতুন আত্মবিশ্বাস দেয়ার পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটেও শক্ত বার্তা দিয়েছে- কঠিন কন্ডিশনে বড় দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশ এখন জয়ের জন্য লড়তে পারে।

তবে উৎসবের মাঝেও সামনে কঠিন পরীক্ষা। ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম ম্যাচের সাফল্যকে আত্মবিশ্বাসে পরিণত করে এবার সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। নাজমুলের বার্তাও পরিষ্কার- একইভাবে সেশন ধরে ধরে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আরো একটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখা সম্ভব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

অর্জনের চিত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা

সরকার গঠনের ৬ মাস অর্জনের চিত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা

রাজধানীতে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল কোথায়?

রাজধানীতে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল কোথায়?

নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষার খরচ সরকার বহন করবে

প্রধানমন্ত্রী নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষার খরচ সরকার বহন করবে

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App