×

প্রথম পাতা

বাংলাদেশ ও ভারত নিয়ে দুই দেশের মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বাড়ছে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ও ভারত নিয়ে দুই দেশের মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারত নিয়ে দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। ২০২৪ সালের পর এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পিউ রিসার্চের এক জরিপে এমনই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন ভারতের মোট প্রাপ্তবয়স্কের ২৫ শতাংশ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মানুষের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবই বেশি দেখা গেছে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন পাকিস্তানের ৬৬ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কার ৫৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। অন্যদিকে ভারতকে নিয়ে বিশ্বের ৩৬টি দেশের গড়ে ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এর বিপরীতে ভারতের অনুকূলে নয় ৪১ শতাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার দক্ষিণ এশিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের ওপর জরিপ চালিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি পিউ রিসার্চের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষেরা একে অন্যকে কীভাবে দেখছেন, তা জানতে জরিপ চালিয়েছিল পিউ রিসার্চ। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার জনসাধারণের মনোভাবে পরিবর্তন এসেছে। তারা একে অন্যকে আগে যেভাবে দেখতেন, তা অনেকটাই বদলে গেছে। পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বেড়েছে ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার মানুষের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ২০২৪ সালের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। ভারতীয়দের মধ্যে ১০ শতাংশ কমেছে।

জরিপে অংশ নেয়া পাকিস্তানের ২২ শতাংশ মানুষের বাংলাদেশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। শ্রীলঙ্কায় এ হার ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতীয়দের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে ৪৮ শতাংশের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয় বলে জানিয়েছে পিউ রিসার্চ।

প্রতিবেশীদের মধ্যে কোন দেশকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মনে করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ভিন্নতা দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেয়া শ্রীলঙ্কার ৬৩ শতাংশ মানুষ ভারতকে মিত্র মনে করছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী ভারতকে সবচেয়ে ‘বড় হুমকি’ হিসেবে দেখছেন।

পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি (৫১ শতাংশ) মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। আর ৪২ শতাংশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন।

এর আগে বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০২৪ সালে একটি জরিপ চালিয়েছিল পিউ রিসার্চ। তখনকার তুলনায় এখন ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির হার ১৫ শতাংশ কমেছে। এমনকি ওই সময় জরিপে অংশ নেয়া ২৪ শতাংশ মতামত দিতে চাননি। সেটাও এবারের জরিপে মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

অপরদিকে বিশ্বের ৩৬টি দেশের গড়ে ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারতকে নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ৪১ শতাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের অনুকূলে নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার ৩৬টি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়। গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বেশি। ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশেও তা বাড়ছে।

তবে আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষের মধ্যে মোটাদাগে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্র। যেমন- শ্রীলঙ্কার বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আবার পাকিস্তানের চিত্রটা ঠিক উল্টো। বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরিপে অংশ নেয়া ৫০ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। কানাডায় এ হার ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে কানাডার ৫১ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ২০০৮ সালের পর সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে তা দ্রুত কমতির দিকে রয়েছে। ওই বছর ৫১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছিলেন।

মূলত রিপাবলিকান ও রিপাবলিকান-সমর্থকদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-সমর্থক স্বতন্ত্রদের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকার সম্ভাবনা বেশি। ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা ভারতের প্রতি বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। আর ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ৪২ শতাংশ।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রভাব সম্পর্কে জরিপে অংশ নেয়া মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তা আগের মতোই আছে। ৩০ শতাংশ বলেছেন, ভারতের বৈশ্বিক প্রভাব জোরদার হয়েছে। আর ১৩ শতাংশের মতে, ভারতের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ইউরোপ

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভালো। দেশটি থেকে জরিপে অংশ নেয়া ৭১ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ২৪ শতাংশের।

অন্যদিকে জার্মানির ৬৩ শতাংশ, ইতালির ৫৬ শতাংশ, সুইডেনের ৫৫ শতাংশ, ফ্রান্সের ৫০ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসের ৪৯ শতাংশ, হাঙ্গেরির ৪০ শতাংশ, গ্রিসের ৩৯ শতাংশ এবং পোল্যান্ড ও স্পেনের ৩৭ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বেশ মধুর। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ২৯ শতাংশের। অধিকৃত পশ্চিম তীর বা পূর্ব জেরুজালেমে অধিবাসীদের মাত্র ১৮ শতাংশের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

তুরস্ক থেকে জরিপে অংশ নেয়া ৭২ শতাংশের ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। দেশটির মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৮ শতাংশ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক এবং ৪৬ শতাংশ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। অন্যদিকে কেনিয়ার ৭১ শতাংশ, ঘানার ৫০ শতাংশ, নাইজেরিয়ার ৪৭ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ইতিবাচক।

লাতিন আমেরিকা

ব্রাজিলের ৩৭ শতাংশ, কলম্বিয়ার ৩৬ শতাংশ, মেক্সিকোর ৩০ শতাংশ, পেরুর ২৯ শতাংশ, চিলির ২৫ শতাংশ ও আর্জেন্টিনার ২৪ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

এশিয়া-ওশেনিয়া

জাপান ও থাইল্যান্ড থেকে জরিপে অংশ নেয়া ৫৫ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ইতিবাচক। সিঙ্গাপুরে এই হার ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার ৫০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৪৯ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৪ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার ৪৪ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার ৪১ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলো

ভারত সম্পর্কে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মাত্র তিনটিতে জরিপ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে ঐতিহাসিক বৈরিতা রয়েছে। এর প্রভাব দেখা গেছে জরিপেও। জরিপে অংশ নেয়া মাত্র ৭ শতাংশ পাকিস্তানি বলেছেন, ভারত সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। অন্যদিকে ৯১ শতাংশ পাকিস্তানির ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।

শ্রীলঙ্কায় চিত্রটা উল্টো। দেশটির মাত্র ১১ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অন্যদিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন ৭৯ শতাংশ মানুষ। ২০২৪ সালে তা ৬৫ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি (৫১ শতাংশ) মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। আর ৪২ শতাংশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন। পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, এর আগে বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০২৪ সালে একটি জরিপ চালানো হয়েছিল। তখনকার তুলনায় ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির হার ১৫ শতাংশ কমেছে। এমনকি ওই সময় জরিপে অংশ নেয়া ২৪ শতাংশ মতামত দিতে চাননি। সেটাও এবারের জরিপে মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

মতাদর্শভেদে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা

পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মতামতে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ডানপন্থিদের তুলনায় বামপন্থি মতাদর্শের মানুষদের ভারত সম্পর্কে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জরিপে অংশ নেয়া ৫৪ শতাংশ উদারপন্থি ও ৪০ শতাংশ রক্ষণশীল মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অন্যদিকে কানাডায় জরিপে অংশ নেয়া ৫৮ শতাংশ বামপন্থি ও ৪৫ শতাংশ ডানপন্থির ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

ইসরায়েলে চিত্রটা আবার পুরোপুরি বিপরীত। বামপন্থি ইসরায়েলিদের ৪৬ শতাংশ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। দেশটির ডানপন্থিদের মধ্যে এ হার ৬৮ শতাংশ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

অর্জনের চিত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা

সরকার গঠনের ৬ মাস অর্জনের চিত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা

রাজধানীতে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল কোথায়?

রাজধানীতে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল কোথায়?

নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষার খরচ সরকার বহন করবে

প্রধানমন্ত্রী নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষার খরচ সরকার বহন করবে

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App