×

প্রথম পাতা

হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশুই পুষ্টিহীনতার শিকার

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ  শিশুই পুষ্টিহীনতার শিকার

ছবি: সংগৃহীত

হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতার হার অত্যন্ত বেশি। আক্রান্তদের ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি ও ৫৩ শতাংশ শিশুর শরীরে মাঝারি ধরনের পুষ্টিহীনতা ছিল; অর্থাৎ ৬৫ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছিল বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পরিপূর্ণ বুকের দুধ পায়নি। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শিশুদের মধ্যে যারা মারা গেছে, তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ শিশুই পরিপূর্ণ বুকের দুধ পায়নি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর করা এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম ও আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ বাকী ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম ও আইসিডিডিআরবির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ৩৫৪ শিশুর ওপর পরিচালিত এই গবেষণার তথ্য বলছে, ৪৩ শতাংশ শিশু ৩ মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়েছে। গবেষকরা বয়স ও টিকা নেয়ার ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে ৪টি দলে ভাগ করেন। নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন-৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জন, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া এমন ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জন, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়। ১ ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন বা ৯২ শতাংশ এবং সুপারিশকৃত ২ ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জন বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।

গবেষকরা বলেন, এর অর্থ এই নয় যে, পূর্ণ ২ ডোজ টিকা পাওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশই হাম আক্রান্ত হচ্ছে। অনুসন্ধানে অংশ নেয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ৭৬ শতাংশের হিসাবটি কেবল শিশু হাসপাতালভিত্তিক অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত ২ ডোজ টিকা পাওয়া ২১ সন্দেহভাজন রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দুই ডোজ টিকা পাওয়া ১৬ শিশুর হাম নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি আরো অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার অন্তর্ভুক্ত (সাবক্লেড) এবং অন্যান্য দেশে শনাক্ত হওয়া বি৩ ভাইরাসের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। গবেষকেরা ভাইরাসের এইচ প্রোটিনের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পারে এমন অংশ বা এপিটোপ অঞ্চলে ৪টি পরিবর্তন বা মিউটেশনও শনাক্ত করেছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো অন্তত ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক করলেও হুট করে আগামী সপ্তাহেই হাম বন্ধ হয়ে যাবে- এমন মিথ্যা আশ্বাস আমি কাউকে দেব না। কোনো দায়িত্বশীল চিকিৎসক বা বিজ্ঞানীও এমন আশ্বাস দেবেন না।

তিনি আরো বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একবার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। শিশুদের হাম থেকে রক্ষা করতে হাসপাতালের বেড, আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রতিরোধের দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকার বিকল্প এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের জানা নেই। আমাদের ইমিউনাইজেশন ব্যবস্থায় যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকেই এই প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি। এখন টিকার কভারেজ বাড়াতে হবে। আমাদের চূড়ান্ত সমাধান হচ্ছে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সময়মতো টিকা আনা এবং ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচি যথাসময়ে করতে না পারার মতো একাধিক কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সীমিত জনবল নিয়েও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যাপক কাজ করছেন। টিকা দেয়ার জন্য আমাদের মাঠকর্মী থাকার কথা ৪০ হাজার। বর্তমানে আছেন ২৫ হাজার। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ জনবল কম। কিন্তু যারা আছেন, তারা ২০০ শতাংশ পরিশ্রম করেছেন। গ্রাম-গঞ্জ, চরাঞ্চল-সাইকেল ও নৌকায় করে তারা টিকা পৌঁছে দিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। গেøাবাল স্ট্যান্ডার্ডের বিবেচনায় এটি একটি বিশাল ইমিউনাইজেশন ক্যাম্পেইন।

স্বাস্থ্যকর্মীদের এই ত্যাগ ও কর্মস্পৃহাকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের যে ঘাটতি, সেটা মূলত সংখ্যার ঘাটতি। যেখানে ১০ জন ডাক্তার দরকার, সেখানে আছে ৫ জন। যেখানে ৪০ হাজার টিকাদান কর্মী দরকার, সেখানে আছে ২৫ হাজার। এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসা ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনার কাজও চলবে। তবে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এর মধ্যেই আমাদের

কাজ করতে হবে, মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে, উন্নত ব্যবস্থাপনা দিতে হবে। কিন্তু অবাস্তব প্রত্যাশা রাখা যাবে না যেকোনো একটি ম্যাজিক বুলেটে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান আগামীকাল বা সামনের সপ্তাহে হয়ে যাবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

৫ আমেরিকানসহ ও ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

কেনিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত ৫ আমেরিকানসহ ও ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থিতিশীলতা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থিতিশীলতা

মার্কিন নৌ অবরোধে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ইরানের

মার্কিন নৌ অবরোধে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ইরানের

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App