×

প্রথম পাতা

স্বাস্থ্যসেবার নামে ছেলেখেলা

Icon

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্যসেবার নামে ছেলেখেলা

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়গনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নতুন নয়। নিবন্ধন ছাড়াই মানহীন অনেক সেবা প্রতিষ্ঠান ভুল ও ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সময়। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীর প্রাণহানির ঘটনাও কম নয়। স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পরিবর্তে এসব মানহীন প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য খাতের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, একটি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের বৈধ লাইসেন্স থাকা কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়। লাইসেন্সের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অবকাঠামো, চিকিৎসক-নার্স, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, স্বাস্থ্যবিধি ও রোগীর নিরাপত্তার মতো বিষয়। বিষয়গুলো নজরে এলে বিভিন্ন সময় অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিছুদিন এই অভিযান চললেও পরবর্তীকালে তা গতি হারায়।

ঢাকায় ভুয়া চিকিৎসকের হাতে

রোগী : গত ২৩ মার্চ রাজধানীর শ্যামলীর কলেজগেট এলাকায় ‘ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ আকস্মিক পরিদর্শনে যায় স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানে ভুয়া চিকিৎসকদের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করার অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি সিলগালার নির্দেশ দেয়া হয়। ভর্তি রোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়। একই সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক পরিদর্শনে আরো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। ৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। একটি হাসপাতালে ৪ জন রোগী ভর্তি থাকলেও দায়িত্বে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রোগীদের সরকারি হাসপাতাল থেকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সেখানে নেয়া হয়েছিল। আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া চিকিৎসক রোগী দেখছিলেন। এ ঘটনাগুলো শুধু অনুমোদনের প্রশ্ন নয়; বেসরকারি চিকিৎসাব্যবস্থায় রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসকের যোগ্যতা এবং রোগী সংগ্রহের বাণিজ্যিক চক্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

রাজধানীর বাইরের চিত্র আরো ভয়াবহ : সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অভিযান হয় ৪ আগস্ট ফরিদপুরে। বৈধ লাইসেন্স না থাকা ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে ৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বন্ধ করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলি সিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। একই দিনে টাঙ্গাইলেও অনুমোদনহীন তিনটি ক্লিনিক সিলগালা এবং একটি হাসপাতালকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইলে ৬শ’র বেশি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল থাকলেও বৈধ সরকারি অনুমোদন রয়েছে মাত্র ১০৪টির। এই পরিসংখ্যানই প্রশ্নটি সামনে আনে- একটি জেলায় শত শত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালালেও বৈধ অনুমোদনের সংখ্যা এত কম কেন?

টাঙ্গাইলে ২ আগস্ট জাতীয়

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ‘পাইলট হাসপাতাল’-এর প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করা হয়। সেখানে যোগ্য প্যাথলজিস্ট ছাড়াই পরীক্ষা চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। একই প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, ওষুধ সংরক্ষণের রেফ্রিজারেটরে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা না থাকা এবং নষ্ট রক্ত সংরক্ষণের মতো অনিয়মও পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার ফল ভুল হলে রোগ নির্ণয়ও ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর ভুল রোগ নির্ণয়ের পর ভুল চিকিৎসা শুরু হলে তার পরিণতি রোগীর জন্য গুরুতর হতে পারে।

এছাড়া ২২ জুন রংপুর নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগের মধ্যে ছিল রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স নবায়ন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ২২ জুলাই মানিকগঞ্জে লাইসেন্স নবায়ন না করা, কর্তব্যরত চিকিৎসক না থাকা, লেবার রুম না থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগে দুটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ৯ জুলাই নরসিংদীর রায়পুরায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেখানে লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, রিএজেন্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। একই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে সমস্যাটি কোনো বিচ্ছিন্ন এলাকার নয়; বরং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ও পুনরায় ফেরত

বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তদারকি নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

গত ২৭ মে সেখানে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। এরপর ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে। অধিদপ্তর জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেয়া কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটির পরের অধ্যায়ও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর শর্তসাপেক্ষে ২৭ জুলাই হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করা হয় এবং ২৮ জুলাই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা আবার চালু হয়। পুনরায় চালুর শর্তের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং বিদ্যমান বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়টি ছিল। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াই শেষ কথা নয়; ব্যবস্থা নেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি শর্ত পূরণ করছে কিনা, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন।

৫ মাসে দেশে আড়াইশ’র বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

দায়িত্ব নেয়ার পর অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো শুরু করে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। বেশ কিছু অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেও উপস্থিত ছিলেন। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে বিগত ৫ মাসে সারাদেশে ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অভিযান চালানো হয়েছে। ২৫০টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। ২০০টি ক্লিনিককে সংশোধনের সময় দেয়া হয়েছে। যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই, তাদের সময় দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আরো ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হবে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম এবং নি¤œমানের চিকিৎসাসেবা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে। এরপর রংপুরে ১১১, ময়মনসিংহে ২৫২, রাজশাহীতে ৫৫, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ৪৮, খুলনায় ১৫৬ এবং সিলেটে রয়েছে ৮টি।

জানা গেছে, গত কয়েক মাস অভিযান চালিয়ে রাজধানীর প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তদন্তকারী দল এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করেন এবং তাদের মধ্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ফরিদপুরে ৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ৬টি ক্লিনিক, শরীয়তপুরে ২টি ক্লিনিক, নরসিংদীতে ২টি, পাবনায় ২টি ক্লিনিক, মানিকগঞ্জে ২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে ১টি, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১টি ক্লিনিকস দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২ শতাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে।

লাইসেন্স পেয়ে পরবর্তীকালে শর্তের কথা ভুলে যায় বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল; তথ্য জানায় না অধিদপ্তরকে

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স পেতে বেশ কিছু শর্ত মানতে হয়। তবে সেই শর্তগুলো পরিপালনে নজরদারি না করে কেবল বড় ধরনের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কিংবা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই স্বাস্থ্য বিভাগকে তৎপর হতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখা সূত্রে জানা যায়, লাইসেন্স নিয়ে ১৯৮২ সাল থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে একবার লাইসেন্স নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আর তা নবায়নে আগ্রহী হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতে ১০ বেডের অনুমোদন নিলেও পরে বেড বাড়ালে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানা না। অনেকে বেডের সঙ্গে সংগতি রেখে বাড়ায়নি জনবল। ভবন সম্প্রসারণ করা হলেও তা জানায় না।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, দরকার নিয়মিত নজরদারি

স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিয়মিত পরিদর্শন, চিকিৎসক ও জনবলের উপস্থিতি যাচাই, ল্যাবরেটরির মান নিয়ন্ত্রণ, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা এবং রোগীর অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা। একই সঙ্গে রোগী ভাগানোর দালালচক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। শুধু ক্লিনিক মালিককে জরিমানা করে দালালচক্রকে বাইরে রাখলে পুরো ব্যবস্থার একটি বড় অংশ অক্ষত থেকে যায়।

চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথের (ডিপিপিএইচ) আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব ভোরের কাগজকে বলেন, সারাদেশেই সরকারি চিকিৎসাসেবায় ঘাটতির সুযোগ নিয়ে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কোনো নিয়ম না মেনে শত শত হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চাহিদা বাড়ছে। এখন এই চাহিদার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে উঠছে। সেবার মানসিকতার চেয়ে ব্যবসায়িক চিন্তা বড় হয়ে উঠছে। তাই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যটাই প্রাধান্য পাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা যথাযথ নজরদারি কাঠামো তৈরি হয়নি। রেগুলেটরি কোনো মেকানিজম নেই এবং আর্থিক সংগতিও নেই। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়গুলো তদারকি করলেও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালানো এবং নজরদারির জন্য তাদের প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই। তাই সার্বিকভাবে বিষয়গুলোর দিকে নজর না দিয়ে শুধু অভিযান চালিয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী মনে করেন, এই অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটা আলাদা উইং তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সারা বছরই যাতে মনিটরিং করা যায় সেখানে পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এর পাশাপাশি মফস্সলে স্থানীয় প্রশাসনকেও এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের জবাবহিতার আওতায় আনতে হবে।

তবে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না। যারা অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

৫ আমেরিকানসহ ও ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

কেনিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত ৫ আমেরিকানসহ ও ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থিতিশীলতা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থিতিশীলতা

মার্কিন নৌ অবরোধে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ইরানের

মার্কিন নৌ অবরোধে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ইরানের

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App