×

প্রথম পাতা

হরমুজ এখন কার নিয়ন্ত্রণে, কেন ইউরোপকে হুমকি দিল তেহরান

Icon

মিলিতা বাড়ৈ মুন্নি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ এখন কার নিয়ন্ত্রণে, কেন ইউরোপকে হুমকি দিল তেহরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জলপথের ব্যবহার নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র দ্ব›দ্ব চলছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে এখন প্রণালিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ছে। জাহাজ চলাচলের সা¤প্রতিক তথ্যে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

যদিও গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইরান। উল্টো তেহরান জানিয়েছে, গত সোমবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি শেষ হয়েছে। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা বৃদ্ধি করেন, তাহলে ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে ইরান। এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপকে হুমকি দিল দেশটি। খবর রয়েছে, ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। স¤প্রতি এসব সামগ্রীর চালানবাহী ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে।

এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ইরানের নেতারা বলেছেন, টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়া হতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বুলগেরিয়াকে। দেশটি গতমাসে তাদের বাজমার বিমানঘাঁটিতে মার্কিনিদের বিমানগুলোকে রিফুয়েল করার অনুমতি দিয়েছে। টার্গেট করা হতে পারে সাইপ্রাসকেও। গত মার্চে দেশটিতে থাকা ব্রিটিশদের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে আবারো হামলা চালায় তাহলে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাব-সি ফাইবার অপটিক ক্যাবলকেও টার্গেট করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

এমন পরিস্থিতিতে ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতি অত্যন্ত জটিল এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপ বা অন্য কোনো অঞ্চলে মার্কিন অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক

সংঘাতের পরিধি আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে সামরিক সরঞ্জাম বা সরবরাহ হস্তান্তরের খবর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যকার সমীকরণকে জটিল করে তুলছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বাধ্য হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প দাবি করছেন- হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং তারা বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিরাপদ রাখতে কাজ করছেন। অপরদিকে ইরান দাবি করছে- হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে তেহরানের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জলযান এই পথ পার হতে পারবে না। ফলে সংঘাতের কারণে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক জাহাজ ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প ওমান রুট ব্যবহার করছে বা জিপিএস বন্ধ রেখে চলাচল করছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি তেল ও গ্যাসের রুট বিঘিœত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এমন আবহে জাহাজের ট্রান্সপন্ডার ও স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজের ৮০ শতাংশের বেশি ওমানের দিকের রুট ব্যবহার করেছে। এটি জাতিসংঘ অনুমোদিত একটি নৌপথ, যার বিরোধিতা করে আসছে ইরান। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য এই রুটের বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা করেছিল তেহরান। তারপরো বেশিরভাগ জাহাজ স¤প্রতি তেহরানের নির্দেশ উপেক্ষা করেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষা প্রতিশ্রæতির ওপর ভরসা রেখে জাহাজগুলো প্রণালি পার হয়েছে।

প্রণালির বর্তমান তথ্য-উপাত্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের উপস্থিতি বাড়িয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছে। অন্যদিকে, ইরান তাদের আগের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হুমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, ‘ইরান অন্তত আংশিকভাবে হলেও প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। যতদিন যাচ্ছে, বিষয়টি ততই স্পষ্ট হচ্ছে।’

কেপলারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এক মাস আগে ও বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। এক মাস আগে ওমান রুটে নৌযান চলাচলের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোটায় ছিল। এখন ওমান রুটে নৌচলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে ইরানের নির্ধারিত রুটে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, তাই কোনো টোল বা শুল্ক আদায় করতে পারছে না দেশটি।

‘পিকারিং এনার্জি পার্টনার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ড্যান পিকারিং জানান, টোল সংক্রান্ত দাবিটি মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ পক্ষ মানতে চাইছে না। ফলে তাদের জাহাজ ওমান উপকূলের রুট ব্যবহার করাকে যুক্তিসঙ্গত মনে করছে।

‘লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটস’-এর প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি লিপো জানান, পারস্য উপসাগরে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ দিয়ে বাইরে আনতে বৃহৎ আকারের ট্যাংকার (ভিএলসিসি) ভাড়া করেছে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটি ওমান উপসাগরের বিপদজনক এলাকার বাইরে যাওয়ার পর গ্রাহকদের ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে।

ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে জাহাজগুলো ট্র্যান্সপন্ডার (সংকেত পাঠানোর যন্ত্র) বন্ধ করে রাখছে। কখনো কখনো এই যন্ত্রটি কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ ধরনের ‘ডার্ক ট্রাফিক’ বা গোপনে চলাচলকারী জাহাজ কেপলারের মতো প্রতিষ্ঠানের নজর এগিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই ট্রাফিক শনাক্ত করা সম্ভব হলেও, প্রচলিত উপায়ে নজরদারি চালানো বেশ কঠিন।

তবে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের ওপর নজর রাখতে পারছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রচলিত সংস্থাগুলো তেল পরিবহনের যে হিসাব দিচ্ছে, সেটির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ করা পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। গত সপ্তাহে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই পরিমাণ ২ কোটি ব্যারেলের কাছাকাছি ছিল।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরামকো গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে তেল বোঝাই করার কাজ আবার শুরু করেছে এবং এখন তেল বোঝাইয়ের জন্য আরো অনেক ট্যাংকার অপেক্ষায় রয়েছে। জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য ও বাণিজ্য উৎসগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

কার্যক্রম শুরুর পর গত সোমবার এশীয় পরিশোধনাগারগুলোর কাছে ‘আরব মিডিয়াম’ এবং ‘আরব হেভি’ অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দেয় আরামকো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে একটি জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে হস্তান্তরের মাধ্যমে এসব তেলের চালান সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে গত মাসে হরমুজ প্রণালিতে আরামকোর তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক সপ্তাহের জন্য নিজেদের বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে জুয়াইমাহ ও রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে অতিবৃহৎ তিনটি জাহাজ তেল বোঝাই করেছে। ‘মালয়েশিয়া প্রসপারিটি’, ‘আলজেরিয়া প্রসপারিটি’ এবং ‘সিঙ্গাপুর প্রসপারিটি’ নামের এই জাহাজগুলোর প্রতিটিতে ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদির রপ্তানি আবার চালু হওয়ার ফলে অপেক্ষাকৃত ভারী অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি কমতে পারে। এ ধরনের অপরিশোধিত তেল থেকে তুলনামূলক বেশি অবশিষ্টাংশ জ্বালানি পাওয়া যায়, যা জাহাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সৌদি আরামকো। ট্যাংকারগুলোর মালিক প্রতিষ্ঠান সিনোকোরও রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। সম্প্রতি সৌদি আরবকে চাপে ফেলতে লোহিত সাগরে অবরোধ জারি করে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা। এতে হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগরে বৈশ্বিক তেল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হয়। এর মধ্য দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল ইরান।

এদিকে বুধবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছে, ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এনবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, ‘এ তথ্য থেকে আমরা দুটি ব্যাপারে জানতে পেরেছি- (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।’

একই দিন স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য ফাদা হোসেন মালেকি বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো ভুল পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে ইরানের ওপর যে ধরনের অস্ত্র দিয়েই আঘাত করা হোক না কেন, তেহরানও ঠিক একই মাত্রায় তার জবাব দেবে।’

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র আছে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সামরিক জবাব দেয়ার জন্য ইরানের হাতে বহু গোপন ও শক্তিশালী বিকল্প রয়েছে। তেহরান এখন শুধুই আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে আক্রমণাত্মক প্রতিরোধের নীতি গ্রহণ করেছে।’

এর আগে সোমবার ফোনে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের উচিত আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা উত্তোলন করা।’ সংঘাত শেষ করার জন্য কোনো তাড়া নেই জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কোনো সময়সূচি নেই। আমার কোনো তাড়া নেই।’ ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রæথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে- এটাই তার প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রায় ছয় মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধে উভয় পক্ষই নিজ নিজ কৌশলগত অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের চেয়ে পরস্পরবিরোধী শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে। ইরান হয়তো দেখাতে চাইছে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টা এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। একইসঙ্গে তারা (ইরান) হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মূল্যও বাড়িয়ে দিতে চাইছে, যাতে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে তাদের কিছু দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার জন্য বাধ্য করা যায়। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে সরাসরি সামরিক উপায়ে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস বা দেশটির শাসনব্যবস্থা বদল করতে। যা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজ হয়নি, বরং লক্ষ্য অর্জনে বার বার হোঁচট খাচ্ছে ট্রাম্পের দেশ। তবে দুই দেশের এই দোলাচলে ভুগছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। এর থেকে পরিত্রাণ চায় বিশ্ববাসী- এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

৫ আমেরিকানসহ ও ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

কেনিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত ৫ আমেরিকানসহ ও ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থিতিশীলতা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থিতিশীলতা

মার্কিন নৌ অবরোধে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ইরানের

মার্কিন নৌ অবরোধে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ইরানের

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App