×

প্রথম পাতা

জবাব হবে ‘ভূমিকম্পের মতো’ ট্রাম্পকে হুংকার দিল তেহরান

Icon

মিলিতা বাড়ৈ মুন্নি

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জবাব হবে ‘ভূমিকম্পের মতো’ ট্রাম্পকে হুংকার দিল তেহরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত এখন পূর্ণমাত্রার সামরিক লড়াইয়ের বদলে তীব্র অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে। জুনে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক বা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে তেহরান বলেছে, যেকোনো হুমকির জবাব হবে ‘ভূমিকম্পের মতো’। এতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে অস্থিরতা, নতুন নিষেধাজ্ঞায় উদ্বেগ বেড়েছে। ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অবরোধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের কারণে সংঘাত প্রক্সি যুদ্ধে রূপ নেয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই সংঘাত কেবল ইরান বা তার আশপাশের এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরান সমর্থিত শক্তিশালী হ্যাকার গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো এবং জাতীয় গ্রিডে সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধকে আরো উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিকে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। এ বিষয়ে আবারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন তিনি। এতে হরমুজ প্রণালিকে গোল করে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার নিজের ট্রæথ সোশ্যালে এই ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প। এর আগে গত ১৮ আগস্টও একই ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি।

এছাড়া গত ১৫ আগস্ট নিউইয়র্কে এক সমাবেশে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তিনি

বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। বর্তমানে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

মূলত আপাত দৃষ্টিতে বর্তমানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ট্রাম্প। তার দৃষ্টিতে এবার অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে বাগে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া যুদ্ধের তীব্র উত্তেজনার মধ্যে নতুন কৌশলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক দেশগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় রাতের আঁধারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পাহারায় হরমুজ প্রণালি পার করে তেল সরিয়ে নিচ্ছে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানিগুলো। এমনকি হরমুজ খুলতে একজোট হয়েছে পশ্চিমারা। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প কিছুটা মানসিক স্বস্তি পাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে আল-জাজিরাকে কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেছেন, ট্রাম্পের জন্য এই চাপ প্রয়োগের কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়ন করা ‘খুবই কঠিন হবে’। মাসগ্রেভ আরো বলেন, ‘ট্রাম্প একতরফাভাবে এমন কিছু সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন, যার জন্য সাধারণত বহুপক্ষীয় সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। এর মানে হলো, এ উদ্যোগে চীন, রাশিয়া ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে পাশে পেতে হবে।’ তবে চীন ও রাশিয়াকে ইরানের মিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

অপরদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইরানও। দেশটি জানিয়েছে, জলপথটি ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে এবং নির্ধারিত ট্রানজিট ফি দিতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের আচরণ সংশোধন এবং প্রতিশ্রæতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’ রেজাই আরো বলেন, ‘এবার যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নিজেদের দায়বদ্ধতা পূরণ করতে হবে।’ ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে দুই দেশের সংঘাত ‘ভূমিকম্পের মতো’ হবে বলেও সতর্ক করেন রেজাই।

ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’-এ অংশ না নিতে অন্য দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন রেজাই। তার ভাষ্য, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে অংশ নেয়া যেকোনো দেশকে শত্রæ হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে না এলে তাদের স্বার্থে আঘাত করবে ইরান।’

আইআরআইবিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে মোহসেন রেজাই বলেছেন, ‘ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করার মার্কিন চেষ্টায় কোনো আঞ্চলিক দেশ অংশ নিলে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। আমরা সব প্রতিবেশী দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দেয়ার জন্য বলছি। অন্যথায়, আমরা তাদের শত্রæ হিসেবে বিবেচনা করব।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমরা আলোচনা করব। তারপর সুন্দর ভাষায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করব। কারণ, আমরা আসলে যুদ্ধ ছড়াতে চাই না। এরপরো যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেয়া বজায় রাখবে, তাদের পুনর্বিবেচনার জন্য কিছুটা সময় দেব। তবে তৃতীয় পর্যায়ে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

রেজাই দাবি করেন, ‘যুদ্ধে ইরানের হাতে এখনো অনেক বিকল্প রয়েছে। এখন পর্যন্ত ইরান শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, কোনো মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত করেনি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক হুমকি ক্রমাগত বাড়তে থাকার মুখে রেজাই এ মন্তব্য করলেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় হাজারো সাধারণ মানুষের মৃত্যু, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং তীব্র স্বাস্থ্য ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম চড়া থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম

তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সংকেত, কমলো জ্বালানি তেলের দাম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সংকেত, কমলো জ্বালানি তেলের দাম

নতুন দায়িত্ব পেলেন তামিম ইকবাল

নতুন দায়িত্ব পেলেন তামিম ইকবাল

আইফোনের কিস্তি মেটাতে ব্যর্থ, যমুনায় ঝাঁপ দিলেন নৃত্যশিল্পী

আইফোনের কিস্তি মেটাতে ব্যর্থ, যমুনায় ঝাঁপ দিলেন নৃত্যশিল্পী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App