ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস হার টাইগারদের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
শটটি খেলেই ভুল বুঝতে পেরেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কোমরে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এরপর মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লেন। তার বিদায়ের পরই যেন ভেঙে পড়ল বাংলাদেশের প্রতিরোধ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে আবারো একশর নিচে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। দুই দিনেরও কম সময়ে শেষ হওয়া এই টেস্টে মোট ৭৫০ বল খেলা হয়েছে। টেস্ট ইতিহাসে এটি চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর চেয়ে কম বলে টেস্ট শেষ হয়েছিল মাত্র একবার- ১৯৩২ সালে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকরা শেষ পর্যন্ত করে ২১০ রান। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসেই ১৪৬ রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ঘাটতি পুষিয়ে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ রানেই শেষ হয়ে যায় ইনিংস।
তবে বল হাতে বাংলাদেশের জন্য দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন শরিফুল ইসলাম। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে গড়েন একাধিক কীর্তি। বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেয়া প্রথম পেসার তিনি। দেশের বাইরে পেস-স্পিন মিলিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৪৩ বছর পর কোনো সফরকারী বাঁহাতি পেসার এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়লেন।
শরিফুলের অসাধারণ বোলিংয়ের পরও সতীর্থ ব্যাটসম্যানরা সেই লড়াইয়ের সুযোগ ধরে রাখতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই ছিল অস্থিরতা। সাদমান ইসলাম ১ রানে আউট হন। মুমিনুল হক ফেরেন প্রথম বলেই। তানজিদ হাসানও লাঞ্চের আগে দৃষ্টিকটু শটে উইকেট হারান। এরপর শান্ত ও মুশফিকুর রহিম মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ক্রিজে এসেই দারুণ কিছু ড্রাইভ খেলেন শান্ত। মিচেল স্টার্কের বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে মাত্র ১২ বলেই ২১ রান করে ফেলেন তিনি। পরে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ন্যাথান লায়নের বলে অপ্রয়োজনীয় আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে লং অফে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
শান্ত ফেরার পরই শুরু হয় আসল ধস। স্টার্কের বলে শরীর থেকে অনেক দূরে খেলতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন লিটন দাস। শূন্য রানে আউট হয়ে সিরিজের তিন ইনিংসেই কোনো রান করতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজও ফেরেন মাত্র ১ রানে। কামিন্সের বাউন্সারে হাসান মাহমুদ এবং স্টার্কের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তাইজুল ইসলামও বিদায় নেন।
এক প্রান্তে মুশফিকুর রহিম চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত দলকে ইনিংস পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেননি। ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। চা-বিরতির পর মাত্র তিন বলের মধ্যে শেষ দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন ন্যাথান লায়ন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের চিত্রটি ছিল চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। শান্ত ও মুশফিক মিলে করেন ৬০ রান। বাকি নয় ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত সংগ্রহ মাত্র ২৮। অতিরিক্ত থেকে আসে ৭ রান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক নেন ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৬ উইকেট শিকার করা এই বাঁহাতি পেসারই হয়েছেন ম্যাচ ও সিরিজ সেরা। প্যাট কামিন্স নেন ৩ উইকেট, ন্যাথান লায়নও পান ৩টি। ম্যাকাই টেস্টের ফল বাংলাদেশের জন্য হতাশার হলেও পুরো সিরিজটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারলেও সিরিজ ড্র করে দেশে ফিরছে দলটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন ফল সিরিজ শুরুর আগে খুব কম মানুষই প্রত্যাশা করেছিলেন।
ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকার ব্রেন্ডন জুলিয়ানের মন্তব্যও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের সামগ্রিক মূল্যায়ন হয়ে উঠেছে- মাথা উঁচু রেখেই দেশে ফিরতে পারে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে বাংলাদেশের সামনে এবার ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অক্টোবরে সেই সিরিজের পর নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। সামনে কঠিন পরীক্ষার আগে ম্যাকাইয়ের ব্যাটিং ধস থেকে দ্রুত শিক্ষা নেয়াই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৬৪ ও ৯৫; অস্ট্রেলিয়া ২১০। অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী। দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র। ম্যান অব দা ম্যাচ ও সিরিজ- মিচেল স্টার্ক।
