এক হাজার ৩৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন বিএমইউ’র
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) পরিচালন ও উন্নয়ন বাবদ ১০৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা অনুমোদন মিলেছে। যা গতবছরের তুলনায় প্রায় ৬৩ কোটি টাকার বেশি। তবে এতে ঘাটতি বাজেটই রয়েছে ১০৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
গতকাল শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় ২৯তম বাজেট অধিবেশনে এই বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার ও পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শরিফুল হাসান রতন এই তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৩৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে চিকিৎসা সেবা ও গবেষণাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবসম্মত উন্নয়নমুখী ও জনকল্যাণ কেন্দ্রিক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিরীক্ষে স্বাস্থ্যক্ষের শ্রম বর্ধমান চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষার পরবর্তী চাহিদাকে সামনে রেখে কস্ট কন্ট্রোল অ্যান্ড কস্ট রিডাকশন ব্যয়নীতি অনুসরণের মাধ্যমে এই বাজেট তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষা ও একাডেমিক উন্নয়নে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, ডিজিটাল ক্লাসরুম ও ই-লার্নিং, গবেষণা অনুদান বাড়ানো, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর) চালুসহ বিনামূল্যে ওষুধ দেয়ার অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগ ও অন্তবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেয়ার জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা গত অর্থবছরে ছিল ১২ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি ছিল ৩ কোটি টাকা।
পরিচালক শফিকুল হাসান রতন ও ট্রেজারার নাহরীন আখতার জানান, হাইপারটেনশন এবং ডায়াবেটিস রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আইসিইউর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জেকশন মেরোপেনাম, ইনডোরের রোগীদের জন্য স্যালাইন এবং ওরাল অ্যান্টিবায়োটিকসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এর বাইরে আধুনিক চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়োপযোগী চিকিৎসা সরঞ্জমা সংযোজনের লক্ষে এমএসআর (শৈল্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম) উপখাতে গত বছরের চেয়ে ৪৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া অনকোলজি বিভাগে একটি মাত্র লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিন ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এই মেশিনটি নতুনভাবে চালু করাসহ আরো অত্যাধুনিক দুটি লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিনের জন্য ৭৬ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ক্যান্সার রোগী সেবায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
বাজেটে হাসপাতাল পরিচালনা ও রোগী সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা চিন্তা করে মেডিসিন এবং ইনফেকশন কন্ট্রোল ডিজিজের জন্য ১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনবোধে সংশোধিত বাজেটে আরো বরাদ্দ দেয়া হবে। এই ১০ কোটি টাকা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। গবেষণা বাবদ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বাজেটে ২২ কোটি টাকা এবং নিজস্ব আয় থেকে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৭ কোটি ৭০ লাখ বেশি। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম বাড়ার লক্ষ্যে সংশোধিত বাজেটে আরো বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় ডকুমেন্টস অটোমেশনের মাধ্যমে রেকর্ড রাখার জন্য ইএমআর চালু করতে প্রস্তাবিত বাজেটে নিজস্ব আত বিল থেকে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে গত বছরের তুলনায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আরো উন্নতির লক্ষ্যে ই-লগবুক উপখাতে এবারের বাজেট এক কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে পূর্ত ও সংরক্ষণ খাতে ৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত নিজস্ব আয় থেকে আরো অতিরিক্ত ৭ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের মাধ্যমে সংকুলান করা হবে। এছাড়া বইপত্র ও সাময়িকী উপখাতে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাই উপখাতে ২ কোটি প্রশিক্ষণ ব্যয় খাতে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা, পথ্য খাতে ১৮ কোটি টাকা এবং বৃত্তি ও মেধাবৃত্তি ২২৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৩৬৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব, সিরার্চ সেন্টার ও প্রশাসনিক ভবন, ৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার, ৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে হেপাটোবিলিয়ারি এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার, ৩০৪ কোটি টাকায় কেন্দ্রীয় স্টেম সেল ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং ১৮৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ইলেক্ট্রনিক ডাটা ট্র?্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি। ইতোমধ্যে এসব প্রক্লপের প্রকল্প দলিল প্রণীত হয়েছে। এছাড়া প্রস্তারিত বাজেটের উন্নয়ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জায়গা বরাদ্দ সাপেক্ষে ছাত্রছাত্রীদের পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে একটি মাল্টিপারপাস আবাসিক হল নির্মাণের প্রস্তাব হয়েছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর থেকে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করে প্রকৃত প্রাক্কলন নির্ধারণপূর্বক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে এই আবাসিক হল নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে পরিচালক খন্দকার শফিকুল হাসান রতন ও ট্রেজারার নাহরীন আখতার জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ইতোমধ্যে এর শতকরা ৭৮ দশমিক ৯৭ ভাগ ব্যয় হয়েছে। আগামী আগস্ট মাস নাগাদ ওই বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
