প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর নিয়ে সংসদে ধন্যবাদ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে অভূতপূর্ব সাফল্য হিসেবে মূল্যায়ন করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সরকার সফরটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের নতুন অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধী দল জাতীয় স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত মৌলিক চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
প্রস্তাব উত্থাপন করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার চার মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য, সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা সম্পাদিত হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা আরো বাড়াবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছেন। জনগণের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগও নিয়েছেন।
বিদেশ সফর ঘিরে অতীতের জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার সংস্কৃতি বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন, বিদেশ সফর শেষে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে না।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। তার মতে, পারস্পরিক মর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে এ সফরে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা জরুরি। তিনি সরকারের প্রতি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে বিরোধী দল প্রস্তুত রয়েছে।
তবে তিনি বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত মৌলিক চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তার মতে, এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং জনগণের প্রতিনিধিরা চুক্তিগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
শফিকুর রহমান আরো বলেন, বাংলাদেশ এখনো আমদানিনির্ভর অর্থনীতি। তৈরি পোশাক ও জনশক্তির বাইরে রপ্তানিকে বৈচিত্র্যময় করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় ও সব চুক্তি হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে।
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তার মতে, এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।
উল্লেখ্য, ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে গত শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
