অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা শুরু কাল অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ শিক্ষার্থী
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছরের পড়াশোনার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে। শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এই পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ, চাপ ও প্রত্যাশা কাজ করে। সরকারের দিক থেকেও প্রস্তুতির কমতি নেই। পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নজরদারিসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
এবছর সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে তথ্য বলছে এই পদ্ধতি এবারই প্রথম নয়। ১৯৯৬ সালে সর্বপ্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল, এরপর ২০১৮ সালেও দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন বোর্ডের ফলাফলের বিশাল তারতম্য ও বৈষম্য কমিয়ে আনা।
পরীক্ষা শুরু কাল, কোন বোর্ডে কত পরীক্ষার্থী : আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। এবারের বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা দিয়ে শুরু হচ্ছে এই পরীক্ষা। আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সারাদেশের ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন ৩ লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুরে ২১২টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, যশোর বোর্ডে ২৪০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন। চট্টগ্রামের ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, সিলেটের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, কুমিল্লার ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশালের ১৪২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর সারাদেশে ৪৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
পরীক্ষা হবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেয়া হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সারাদেশে আমরা একক প্রশ্নে এবার পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। দেখি কী হয়। এটা আপনারা জানেন, একেক বোর্ডের সঙ্গে একেক বোর্ডের প্রতিযোগিতা থাকে। কোনো বোর্ড একটু সহজ প্রশ্নপত্র করে; কোনো বোর্ড কঠিন প্রশ্নপত্র করে। একই বাংলাদেশে পরীক্ষা দেবে, এসএসসি এবং এইচএসসি ভিন্ন প্রশ্ন তো হতে পারে না। এটা হয় না। এক দেশ থেকে আরেক দেশে ‘ও’ লেভেল ‘এ’ লেভেলে প্রশ্নপত্র ভিন্ন হয় না। সেজন্য আমরা এটা করেছি; ভালোর জন্যই করেছি।
যৌক্তিক কারণে পরীক্ষার্থী দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছালে নমনীয় হওয়ার আহ্বান
এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীরা কখনো কখনো নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে পৌঁছান। যানজট কিংবা পারিবারিক সমস্যার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় দেরিতে আসা এক ছাত্রীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। সমালোচনার মুখে অনেক সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কোনো শিক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নিতে কিংবা বিশেষ ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায়। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সামনে রেখে কেন্দ্রসচিব ও স্থানীয় প্রশাসনকে পরীক্ষার্থীদের প্রতি নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলে তা নমনীয়ভাবে দেখার নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রসচিব ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, একজন পরীক্ষার্থী কোনো কারণে বা দুর্ঘটনায় হয়তো সময়মতো কেন্দ্রে যেতে পারলো না। সেটা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন যদি ইচ্ছা করে এবং তার কারণকে যদি যৌক্তিক মনে করে; তাহলে তাকে একটু স্পেস দিয়ে পরীক্ষাটা নিতে পারে। এক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থানের নির্দেশনা আমাদের রয়েছে।
নকল-অনিয়ম ঠেকাতে নানা ব্যবস্থা; নকল পেলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না বলে বারবারই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী নকল করলে শুধু ওই শিক্ষার্থীই নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এলোমেলোভাবে উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করা হবে। কোনো পরীক্ষক সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন না করলে বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক থাকবেন। কোনো কক্ষে ২ জনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। ৫ বাই ৬ ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনাতেও রাখা হয়েছে একাধিক নিরাপত্তা স্তর। পরীক্ষা শুরুর ৩দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে আনা হবে এবং মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নকল করলে ৫ পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেবেন পরীক্ষক
পরীক্ষায় নকল বা অনিয়ম ধরা পড়লে পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক ও কক্ষ পর্যবেক্ষকরা ৫টি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গত ২০ জুন এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন নির্দেশনাই দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নকলসংক্রান্ত ঘটনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নকলের ক্ষেত্রে প্রথমত, কক্ষ পর্যবেক্ষক অথবা কর্মরত অন্য যে অফিসার নকল ধরেছেন তার বিবরণ। যিনি নকল ধরেছেন তার মূল রিপোর্ট সংযুক্ত করে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার্থীকে নকল করার সময় ধরা হয়েছে অথবা তার নিকট নকল করার মতো কাগজপত্র ছিল বলে ধরা হয়েছে, সে নকল করার কাজ সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছে কিনা তার প্রকৃত অবস্থার পূর্ণ বিবরণ দিতে হবে। যদি নকল করার সময় ধরা হয়ে থাকে, তবে যে অংশ নকল করা হয়েছে সে অংশ উত্তরপত্রে এবং নকলের কাগজপত্রে লাল কালি দিয়ে অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে এবং যে অফিসার বিষয়টি ধরলেন তারিখসহ তার স্বাক্ষর সেখানে থাকতে হবে। তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থী কাগজপত্র সমর্পণ করতে কোনো বাধা দিতে থাকলে অথবা অমান্য করে থাকলে অথবা পর্যবেক্ষক কর্মকর্তার সঙ্গে অবৈধ আচরণ করে থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। চতুর্থত, শৃঙ্খলা বিধি ৪(ই) অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার না করে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেয়া হলে, কেন এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, তার কারণসহ আলাদা গোপনীয় প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করে উত্তরপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র বোর্ডে পাঠাতে হবে। পঞ্চমত, আটক করা উত্তরপত্র, প্রবেশপত্র ও নকলের কাগজসহ সব ধরনের জব্দকৃত নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন যথাযথভাবে সংযুক্ত করে বোর্ডে পাঠাতে হবে।
কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষায় বিঘ্নিত হলে সারাদেশেই পরীক্ষা স্থগিত
এ মাস প্রাকৃতিকে দুর্যোগপ্রবণ ধরা হয়। বিগত বছরগুলো দুর্যোগের কারণে একাধিক শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষা স্থগিতের নজির আছে। এবছরও এমন বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ ঘটলে শুধু ওই অঞ্চলে নয়, প্রয়োজন হলে সারাদেশেই পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি জানান, দেশের কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে, সেদিন সারাদেশের পরীক্ষাই স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হবে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দুর্যোগের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। একক প্রশ্ন বা অভিন্ন প্রশ্ন আমরা তো সেই স্ব স্ব উপজেলায় পাঠিয়ে দিয়েছি। সেটা তো আমাদের ‘কোয়েশ্চেন ব্যাংকে’ চলে যায়। দুর্যোগে পরীক্ষা নেয়ার অসুবিধা হয়, সেই সময় ইমারজেন্সি ডিসিশন নেয়ার জন্য আমাদের অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে; আমরা বিস্তারিত জানাব।
সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও এবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে এবং ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর ও ডিভিআর/এনভিআর সংযোগের তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্য ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস বহন করতে পারবে না। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি বন্ধ রাখা, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কন্ট্রোল রুম চালু
এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া যোগাযোগের জন্য ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রাজধানীর কেন্দ্রগুলো ঘিরে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ডিএমপি। গতকাল মঙ্গলবার এ গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনগুলোতে পরীক্ষা চলাকালীন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
