বিশেষ আয়োজনে আজ পরীক্ষায় বসছে ১৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী
চট্টগ্রামে ২ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন শনিবার রাতে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে পারেননি বগুড়া ও নাটোরের দুটি কলেজের ১৮ পরীক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। ফলে আজ শনিবার বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন বলে আশা করছেন শিক্ষা বোর্ড।
এর আগে, ফরম পূরণের টাকা কলেজের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের কাছে জমা দিলেও তা বোর্ডে জমা না পড়ায় এসব শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তারা।
জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ শিক্ষার্থী এ সমস্যার মুখে পড়ে।
এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ করায় তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি এবং প্রবেশপত্রও আসেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি বলেন, অনলাইনে ফরম পূরণে জটিলতা হওয়ায় আমি অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেন। পরীক্ষার আগের দিন থেকে তার ফোন বন্ধ এবং তিনি কলেজেও আসেননি। পরে জানতে পারি- আমার ফরমই পূরণ করা হয়নি।
শুধু ইসরাত জাহান নন, একই প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরো সাত শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীরা হলেন- সবুজ আহম্মেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল, শিমুল, শাওন, সাব্বির এবং তানভির হোসেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, একজন মানুষের অবহেলা ও প্রতারণার কারণে আমার মেয়ের উচ্চ শিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হলো। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ বিষয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের থেকে প্রবেশপত্র চাইলে সে বারবার বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো সমাধান করেনি।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, গত বুধবার বিকেলে প্রথমবারের মতো বিষয়টি তার নজরে আসে। কলেজে ফরম পূরণসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এ জন্য আলাদা কমিটি রয়েছে। কোনো কর্মচারীর হাতে নগদ টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শাওনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজে খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন ও নাটোরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কলেজ থেকে হয়ে আসে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়। মূল কাজটা কিন্তু কলেজেই হয়। অসাদু কিছু মানুষের জন্য হয়তো হয়নি। আজ তাদের রেজিস্ট্রেশন করা হবে। তারা আগামীকালকের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
চট্টগ্রামে ২ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন আজ শনিবার রাতে
এদিকে খ্রিস্টান ধর্মের সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের দুই শিক্ষার্থী শনিবার রাতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। দুই পরীক্ষার্থীর একজন নগরের হালিশহর ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থী এঞ্জেলি সুয়ারি ত্রিপুরা। অন্যজন বান্দরবান জেলার একটি কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে বিশেষ ব্যবস্থায় তারা পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই ব্যবস্থায় সারাদেশে মোট ১৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন।
সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শনিবার সূর্যাস্তের আগে লেখালেখিসহ কিছু কাজ থেকে বিরত থাকেন অনুসারীরা। এ কারণে শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থায় তারা সূর্যাস্তের পর রাতে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সকালে অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কেন্দ্রে প্রবেশের পর তারা আলদা কক্ষে অবস্থান করবেন। সূর্যাস্তের পর তাদের পরীক্ষা নেয়া হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হলেও ধর্মীয় কারণে দিনের বেলায় পরীক্ষায় অংশ নেবেন না ওই দুই শিক্ষার্থী। তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত কেন্দ্রের একটি নির্ধারিত কক্ষে অবস্থান করবেন। এরপর সন্ধ্যায় উত্তরপত্রে লেখা শুরু করবেন এবং রাত ১০টায় পরীক্ষা শেষ করবেন।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত কক্ষে অবস্থান করতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া তাদের কাছে অন্য কোনো সামগ্রী রাখা যাবে না। তারা কক্ষের বাইরে যেতে বা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। সার্বক্ষণিক একজন পরিদর্শক দায়িত্বে থাকবেন। তবে সঙ্গে শুকনো খাবার নেয়ার অনুমতি থাকবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সকালে অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কেন্দ্রে প্রবেশের পর তারা আলাদা কক্ষে অবস্থান করবেন। সূর্যাস্তের পর তাদের পরীক্ষা নেয়া হবে।
