জাতিসংঘের সতর্কতা
তীব্র হচ্ছে এল নিনো, বাড়ছে চরম আবহাওয়ার শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি আরো শক্তিশালী হওয়ার আভাস দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও বন্যাসহ নানা ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরো বাড়তে পারে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত ডব্লিউএমওর গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো দ্রুত তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন জলবায়ু মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে।
ডব্লিউএমওর মুখপাত্র ক্লেয়ার নালিস জানান, বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময়ের শুরুতেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে জার্মানিতে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ আরো কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। একই সময়ে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
আরো পড়ুন : চলতি মাস থেকেই মহাতাণ্ডব চালাবে শক্তিশালী ‘এল নিনো’
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত কম হতে পারে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ নামের আরেকটি জলবায়ুগত প্রভাবকও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএমও।
ডব্লিউএমও বলছে, এল নিনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করার জন্য নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, আগাম পূর্বাভাসের মাধ্যমে জীবন ও জীবিকা সুরক্ষার সুযোগ এখনও রয়েছে, তবে সেই সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
ডব্লিউএমওর কর্মকর্তা উইলফ্রান মুফুম্বা সিলভা বলেন, যেসব এলাকায় খরার ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
এল নিনো হলো এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন (ইএনএসও)–এর একটি ধাপ। এ সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এই প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা দেখা দেয় এবং প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এটি সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে গড়ে ওঠে এবং নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়।
ডব্লিউএমওর মতে, এল নিনোর তীব্রতা যত বাড়ে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তবে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এল নিনোর প্রভাব সব অঞ্চলে একই রকম হয় না। এমনকি এল নিনো বা লা নিনা না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
