বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোয় হবে নজরদারি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে জন্য রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল শুক্রবার বিকালে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা ও বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের জেরে খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪ আসামিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) ও মো. মিজানুর রহমান (৪০)। গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন সাহেবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি-তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড় এলাকায় পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.আবুল বাশার (৪৫) ও মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশার মারা যান। আহত সাদ্দাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি-তেজগাঁও বিভাগ আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন সাহেবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত সোমবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা ও বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজার সংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আবুল বাশার ও সাদ্দাম ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। গ্রেপ্তার রিপনই বাদশাকে ছুরিকাঘাত করেন। গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। রিপন ও নিরব আপন ভাই। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মজনু তাদের বাবা। ডিবির ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। ডিএমপির সব থানাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, কোথায় কোথায় এ ধরনের আয়োজন রয়েছে, তা শনাক্ত করে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। থানা-পুলিশ ও ডিবি- উভয় পক্ষ থেকেই সেখানে সদস্য মোতায়েন থাকবে, যেন কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে। নগরবাসীর প্রতি তিনি বলেন, আনন্দ যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, বিষাদে পরিণত না হয়। খেলায় হার-জিত থাকবেই। নিজের দলের জয় উদযাপন করবেন, তবে অন্যের মত ও সমর্থনের প্রতিও সহনশীল থাকতে হবে।
