ইতালিতে ট্রিপল মার্ডারের সাক্ষী আমিরের জবানবন্দি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সে মূলত আমাকেও হত্যার জন্য অপেক্ষা করছিল। গত সপ্তাহে কোনো একটি বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল। আমার পরিবারের সঙ্গেও তার বড় ধরনের ঝামেলা চলছিল। ইতালির রোমে সংঘটিত বাংলাদেশি পরিবারের নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের একমাত্র জীবিত সাক্ষী এবং নিহত কামাল উদ্দিনের বড় ছেলে আমির উদ্দিন অয়ন (২০) ইতালীয় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক জবানবন্দিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। স্থানীয় পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রোমের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এ সাক্ষ্য নেয়। অভিযুক্ত খুনি শাহাদাত হোসেনকে (৪৩) ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানায় সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার দিন রাতে ভিয়া মন্টিগিøওর ৩৫ নম্বর ভবনের সামনে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় যখন উদ্ধারকারীরা ভুক্তভোগী আমিরকে উদ্ধার করেন, তখন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে চিৎকার করে বলছিলেন, সে আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে। আমি বাসায় ফিরে এই দৃশ্য দেখেছি। সে সবাইকে মেরে ফেলেছে। সে সময় চিকিৎসাকর্মীরা তার মাথা ও পায়ের গভীর ক্ষতের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। আমির তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেন আগে থেকেই তাদের বাসায় ওত পেতে বসে ছিল। আমির বলেন, সে মূলত আমাকেও হত্যার জন্য অপেক্ষা করছিল। গত সপ্তাহে কোনো একটি বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল। আমার পরিবারের সঙ্গেও তার বড় ধরনের ঝামেলা চলছিল।
তদন্তকারীদের ধারণা, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক শাহাদাত কয়েক ঘণ্টা ধরে পুরো বাসা পরিষ্কার করে রক্তের দাগ ও হত্যার আলামত গোপন করার চেষ্টা করে। সে নিহত বাবা কামাল উদ্দিনের মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানের চিপায় লুকিয়ে রাখে। আর মা জাহানারা ও ছোট বোন আরাওয়ার নিথর দেহ খাটের নিচে ঠেলে লুকিয়ে রাখে।
আমির কাজ শেষে যখন বাসায় প্রবেশ করেন, প্রথম কয়েক সেকেন্ড তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি। ঘর গোছানো মনে হচ্ছিল। কিন্তু বাবা-মায়ের ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তিনি দেখতে পান খাটের নিচ থেকে তার ছোট বোনের একটা পা বাইরে বেরিয়ে আছে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন তার পুরো পরিবারকে শেষ করে দেয়া হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ওত পেতে থাকা শাহাদাত চাপাতি নিয়ে আমিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমির প্রাণপণে লড়াই করে ঘর থেকে ছিটকে বাইরে এসে প্রাণে বাঁচেন।
আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা কামাল উদ্দিন শাহাদাতের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে পরিবার ও বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে আমিরের মা ও শাহাদাতের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধের গুঞ্জন থাকলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন ও সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
