×

শেষের পাতা

চা শিল্পে দিনবদলের হাওয়া

Icon

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চা শিল্পে দিনবদলের হাওয়া

ভোরের কাগজ : চলতি বছর চা শিল্প নিয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড কতটা আশাবাদী?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিবিড় তদারকির ফলে উৎপাদনে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের মে পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৫৮ মিলিয়ন কেজি বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে। মৌসুমের বাকি সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১০৪ মিলিয়ন কেজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোরের কাগজ : উৎপাদনের পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : আমাদের নীতি একটাই- ‘নো কম্প্রোমাইজ’। উৎপাদন বাড়লেও গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। উন্নতমানের চা উৎপাদনে বাগানগুলোকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার, মান নিয়ন্ত্রণ

এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের চা উৎপাদনে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ভোরের কাগজ : মে ও জুন মাসে খরা এবং রেড স্পাইডার আক্রমণের মতো প্রতিকূলতা ছিল। এতে উৎপাদনে কতটা প্রভাব পড়েছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : এ বছর মে ও জুন মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় খরা ও রেড স্পাইডারের আক্রমণ উৎপাদনে সাময়িক প্রভাব ফেলেছে। তবে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন সন্তোষজনক রয়েছে। এ বছরের মে মাসে গত বছরের চেয়ে ০.৪২ মিলিয়ন কেজি চা বেশি উৎপাদিত হয়েছে। সব বাগানের জুন মাসের পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে এলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ভোরের কাগজ : চা রপ্তানির বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে কী বলবেন?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়লেও রপ্তানিও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর ১.৬৪ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়েছে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যে চাহিদা পাওয়া যাচ্ছে, তাতে রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা নতুন বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থোডক্স ও গ্রিন টি-কে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করার উদ্যোগ নিয়েছি।

ভোরের কাগজ : দেশের চা শিল্পকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করতে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের চা শিল্পকে আধুনিক, টেকসই এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন, দেশে নতুন বাজার সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং চা শ্রমিকদের কল্যাণ- সবগুলো বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেয়া

হচ্ছে। গবেষণা, প্রযুক্তি, উৎপাদন ও বিপণনে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা চা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করছি।

ভোরের কাগজ : বর্তমানে দেশের চা শিল্পের পরিধি কতটা?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : বর্তমানে দেশে ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলে ৮ হাজার এর অধিক ক্ষুদ্র চা চাষি চা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ক্ষুদ্র চা চাষ এখন দেশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ভোরের কাগজ : চা বাগান মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : আমরা চায়ের সর্বনি¤œ নিলাম মূল্য (ফ্লোর প্রাইস) প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছি। বর্তমানে গড়ে চা ২৭০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এবং উন্নতমানের কিছু চা ৪৫০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন এবং শিল্পটি আরও স্থিতিশীল হচ্ছে।

ভোরের কাগজ : গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চা বোর্ড কী করছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) ইতোমধ্যে ২৩টির অধিক ফলনশীল ও উন্নতমানের চা ক্লোন উদ্ভাবন করেছে। এসব ক্লোন মাঠপর্যায়ে স¤প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক চাষাবাদ, রোগ-বালাই দমন, উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মান নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

ভোরের কাগজ : দক্ষ জনবল তৈরিতে কী উদ্যোগ রয়েছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : আমরা নিয়মিত ‘টি টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল’ প্রশিক্ষণের আয়োজন করছি। এতে বাগান ব্যবস্থাপক ও কারখানার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ছে। পাশাপাশি জাতীয় চা দিবসে মানসম্মত চা উৎপাদনকারী বাগানকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে, যা সবাইকে আরও ভালো উৎপাদনে উৎসাহিত করছে।

ভোরের কাগজ : ক্ষুদ্র চা চাষ স¤প্রসারণে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও বান্দরবানসহ সমতল এলাকায় ক্ষুদ্র চা চাষ দ্রুত স¤প্রসারণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র চাষিদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সেচ, সার, কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ভোরের কাগজ : বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভেজাল চা নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : গুণগত মানহীন চা বাজারে প্রবেশ রোধ, নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং কার্যক্রম জোরদার এবং ভেজাল ও অবৈধ চা বিক্রি বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম, শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড় চা নিলাম কেন্দ্রে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিলাম পরিচালনার জন্য নিবিড়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে।

ভোরের কাগজ : দেশের চা বাগানের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় পুনঃরোপণ (জবঢ়ষধহঃরহম) কতটা জরুরি?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : বর্তমানে দেশে প্রায় চা বাগানের মোট জমির পরিমাণ ২,৯৪,০৮১ একর। এর মধ্যে প্রায় ১,৫৯,০৫৯ একর জমিতে চায়ের আবাদ হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, উৎপাদনশীল এলাকার প্রায় ৩৫ শতাংশ চা গাছ বয়স্ক ও অতি বয়স্ক হয়ে গেছে, যেগুলো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। এসব বাগানে পর্যায়ক্রমে পুনঃরোপণ (জবঢ়ষধহঃরহম) ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উন্নত ক্লোন ব্যবহার করে নতুন গাছ লাগানো হলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি চায়ের গুণগত মানও আরো উন্নত হবে।

ভোরের কাগজ : চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ চা বোর্ড কী ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : চা শিল্পের উন্নয়ন শ্রমিকদের উন্নয়ন ছাড়া সম্ভব নয়। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং বাংলাদেশ চা বাগান শ্রমিক শিক্ষা ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিবছর শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা বৃত্তি, বিদ্যালয় নির্মাণে সহায়তা, খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ভোরের কাগজ : শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে শ্রমিক পরিবারগুলো কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য শিক্ষা বৃত্তি, অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চশমা প্রদান, মৃত্যুর পর দাফন-সৎকারের জন্য আর্থিক সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তি এবং শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের বিয়ের জন্য আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচি শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ভোরের কাগজ : গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিটিআরআই) আরো শক্তিশালী করার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : অবশ্যই। আমরা বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে আরো আধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। চায়ে রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি নির্ণয়ে গবেষণাগারের সক্ষমতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা এবং আধুনিক গবেষণা প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চা বাগানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে চায়ের উৎপাদন ও গুণগত মানে কোনো প্রভাব পড়ে কি না, সেটিও গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে।

ভোরের কাগজ : বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) মাঠপর্যায়ে কী ধরনের গবেষণা সহায়তা দিয়ে থাকে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : এ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম মূলত বিটিআরআই পরিচালনা করে। তারা প্রতিটি চা বাগান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে এবং মাটির ধরন অনুযায়ী কী ধরনের সার ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়। এছাড়া রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে বৈজ্ঞানিকভাবে কোন কীটনাশক ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়। ইতোমধ্যে বিটিআরআই ২৩টি অধিক ফলনশীল উন্নত চা ক্লোন এবং ৫টি উন্নত বীজজাত উদ্ভাবন করেছে, যা দেশের বিভিন্ন বাগানে স¤প্রসারণ করা হচ্ছে।

ভোরের কাগজ : জাতীয় চা দিবসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : এর সুফল আমরা ইতোমধ্যে পাচ্ছি। একজন চা শ্রমিক যখন বেশি ও ভালো মানের কাঁচা পাতা সংগ্রহের জন্য জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার ও স্বীকৃতি পান, তখন অন্য শ্রমিকরাও উৎসাহিত হন। শুধু পাতা উত্তোলন নয়; উৎপাদন, গুণগত মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এর ফলে শিল্পের প্রতিটি স্তরে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে এবং সবাই আরো ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

ভোরের কাগজ : জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ চা বোর্ড কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন চা শিল্পেও স্পষ্ট। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে আমরা জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন, উন্নত সেচব্যবস্থা, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, ছায়াগাছ বৃদ্ধি এবং আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।

ভোরের কাগজ : আগামী পাঁচ বছরে দেশের চা শিল্পকে কোথায় দেখতে চান?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : আমাদের লক্ষ্য শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো নয়; বরং বাংলাদেশের চাকে বিশ্বমানের একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আমরা চাই উৎপাদন বৃদ্ধি, উচ্চমানের চা উৎপাদন, রপ্তানি স¤প্রসারণ, ক্ষুদ্র চা চাষের বিকাশ, শ্রমিক কল্যাণ এবং গবেষণানির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের চা শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করুক। সরকার, চা বোর্ড, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাগান মালিক, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র চা চাষিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।

ভোরের কাগজ : বাংলাদেশের চা শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি কী বলে আপনি মনে করেন?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : বাংলাদেশের চা শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, দক্ষ জনবল, বৈচিত্র্যময় চা উৎপাদনের সক্ষমতা এবং গবেষণাভিত্তিক উন্নয়ন। বর্তমানে ক্ষুদ্র চা চাষিরাও উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। উন্নত ক্লোন, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বচ্ছ নিলাম ব্যবস্থা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের নীতিগত সহায়তা- সব মিলিয়ে দেশের চা শিল্প এখন একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

ভোরের কাগজ : দেশের চা শিল্প নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা কী?

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : আমি বিশ্বাস করি, সরকার, বাংলাদেশ চা বোর্ড, বাগান মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র চা চাষিদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের চা শিল্প আরো এগিয়ে যাবে। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার স¤প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চা বিশ্ববাজারে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়; বরং একটি আধুনিক, টেকসই ও রপ্তানিমুখী চা শিল্প গড়ে তোলা।

ভোরের কাগজ : সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ : আপনাকে এবং ভোরের কাগজ কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

মন্ত্রীদের সফরে আলোচনায় সিংগাইর, অপূর্ণ উন্নয়নে দীর্ঘশ্বাস!

মন্ত্রীদের সফরে আলোচনায় সিংগাইর, অপূর্ণ উন্নয়নে দীর্ঘশ্বাস!

পাঁচদিন পর চালু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ

পাঁচদিন পর চালু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ

ঢাকার সড়ক যেন নদী, অন্তহীন দুর্ভোগে নগরবাসী

ঢাকার সড়ক যেন নদী, অন্তহীন দুর্ভোগে নগরবাসী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App