চাঁদাবাজরা গ্রেপ্তার না হলে ইন্টারনেট সেবা প্রদান বন্ধ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) কার্যালয়, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, দখলবাজি এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হতে পারে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের’ উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
মানববন্ধনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম ও সেক্রেটারি জেনারেল নাজমুল করিম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধন থেকে ইন্টারনেট অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, টাওয়ার ও আইএসপি অফিসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।
আমিনুল হাকিম বলেন, নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে দেয়া সম্ভব নয়। চট্টগ্রামে সংঘটিত ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এতে বিনিয়োগকারী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা না হলে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাজমুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের কাজ রাজপথে আন্দোলন করা নয়। কিন্তু চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটার পরও অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইএসপি প্রতিষ্ঠানের ওপর ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির ঘটনা শুধু উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং লাখো গ্রাহকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসাবাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, মোবাইল ব্যাংকিং এবং সরকারি ডিজিটাল সেবাও ব্যাহত করছে।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত করা যেমন গুরুতর অপরাধ, তেমনি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি কিংবা নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে জনগণকে ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত করাও সমানভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
