×

শেষের পাতা

কোনো চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বর্তমান সরকার

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বর্তমান সরকার

বর্তমান সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলায় সরকার বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা পাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগেও বলেছি, আবারো আমি উল্লেখ করতে চাই- বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো প্রকার চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। উগ্রবাদ দমনে রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেভাবে সরকারি দল এবং বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয়ে এই সংসদে কোনো কোনো বিষয়ে দ্বিমত করেছি, কিন্তু একই সঙ্গে অনেক বিষয়ে একমত পোষণ করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, উগ্রবাদ এবং চরমপন্থাকে বর্তমান সরকার প্রশ্রয় দেবে না- এই ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণভাবে বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবো, ইনশাআল্লাহ।

সংসদ নেতা বলেন, আমরা প্রত্যেকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেই বাংলাদেশে চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের কোনো রকম ঠাঁই হবে না। যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কেউ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবে না।

সংসদ নেতা বলেন, আগেই আমরা উল্লেখ করেছি, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং সেটিরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের শহীদরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যে বাংলাদেশে ন্যায়পরায়ণতা এবং ন্যায়বিচারই হবে শেষ কথা। যে বাংলাদেশে ধনী কিংবা গরিব কেউই বৈষম্যের শিকার হবেন না। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে এসব বিষয় যথাযথভাবে সমাধান করাই রাষ্ট্র ও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, উগ্রবাদী সংগঠনে জড়িত সন্দেহে গত ৫ মে ভোর সাড়ে ৬টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠ থেকে ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে ৯ জুলাই রাতে যশোর থেকে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান, বায়োজিত এবং তাহসীন ইসলাম। এর মধ্যে আতাউল্লাহ শাহ জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ছিলেন এবং পরে বহিষ্কৃত হন।

শিশুদের একটি করে গাছ লাগাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী : পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর এবং পরিচর্যার অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে গতকাল বুধবার দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন তিনি। দেশের ৬০টি জেলার শিক্ষার্থীরা এই সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে প্রায় ২ লাখ চারা লাগানো হচ্ছে।

সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারা। তাই খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে। সেটি প্রাণী হোক বা পশু-পাখির প্রতি হোক। কারো প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন আপনারা।

তিনি বলেন, দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার। আর এই মানবিক সৈনিক আপনারা গড়ে তুলবেন। আর শিশুরা মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠলে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

তারেক রহমান বলেন, ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করতে। সেটি তোমাদের স্কুলে হোক বা বাসার আশপাশে। যেখানে মনে করবে সেখানেই একটি করে গাছ রোপণ করবে। গাছটি কি পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করে, ওই গাছটি মানুষের কী কী উপকারে আসে এই বিষয়গুলো তোমরা ইন্টারনেট ঘেঁটে বিভিন্নভাবে রিসার্চ করবে। ঠিক আছে বন্ধুরা।

গাছের উপকারিতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে প্রতি বছর তোমরা একটি করে গাছ সম্পর্কে নতুন কিছু জানতে পারবে। স্কুলে লাগানো গাছ বড় হলে সেটি তোমাদের ছায়া দেবে। ক্লান্ত হলে তোমরা সেই গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে পারবে। একইভাবে বাসায় যদি গাছ রোপণ করো, গাছটা যখন বড় হবে, সুন্দর বাতাস বইবে। ঘরে বসে তুমি বাতাস উপভোগ করতে পারবে। আবার পরিবেশটা অনেক ঠাণ্ডা হবে।

এই দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আজ একটি স্মরণীয় দিন। আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অনেকগুলো গাছ রোপণ করলাম।

এর আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন তারেক রহমান। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

স্টলগুলোয় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা হাতে আঁকা ছবি, যার যার এলাকার ঐতিহ্য তুলে ধরা কাগজের তৈরি হস্তশিল্প দেখা গেছে। এছাড়া স্কুল ফিডিং, আনন্দ শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা, ফাউন্ডেশন লার্নিংসহ প্রাথমিক শিক্ষার নানা কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। স্টল পরিদর্শনের সময় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন প্রধানমন্ত্রী, তাদের সঙ্গে ছবিও তোলেন।

স্টলগুলোয় উপস্থিত থাকা শিক্ষকরা তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং তাদের জন্য খেলাধুলার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, শিক্ষার্থীরা কী কী খেলে? শিক্ষকরা তখন আনন্দ শিক্ষা ও ডিজিটাল শিক্ষা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

টিফিনের টাকা জমিয়ে সাহায্য করি : একটি স্টলের এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, আমরা প্রতিদিন টিফিনের টাকা জমিয়ে যারা অসচ্ছল বন্ধুদের সাহায্য করি। তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা টিফিন করি। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা ভালো কাজ করছো।

এই স্টলের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের পাঠ্যক্রম, কখন ক্লাস শুরু হয়, টিফিনের জন্য সময় কখন, কী কী তারা খেলে তা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে। একটি খেলা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের কাছ থেকে অবহিত হন প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি বলেন, গেইমটা তো চমৎকার।

যেখানে ময়লা দেখবে, নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে : একটি স্টলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা বিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন রাখবে। যেখানে ময়লা দেখবে তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে। ঠিক আছে।

শিশুদের পকেট পাঠাগার চমৎকার : একটি স্টলে শিশুদের জন্য সাজিয়ে রাখা বই নজরে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর। একজন শিক্ষার্থী তাদের পকেট লাইব্রেরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে বলে, এই লাইব্রেরিতে লেভেল করে স্যার শিশুদের বই সাজানো আছে। যে শিশুটির যে বই পড়তে চায় সেই সেই লেভেলে গিয়ে বইটি নেবে। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা সুন্দর জিনিস সেট করেছ। এজন্য তোমাদের ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিশুদের আবদার : স্টল পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের আবদারও পূরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি স্টলে শিক্ষার্থীদের আবদার ছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যদি একটা টবে গাছের চারাটা রোপণ করে দেন সেটা আমরা আমাদের স্কুল আঙিনায় লাগাবো স্মৃতি হিসেবে। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথায় তোমাদের টব ও গাছ। দ্রুত শিক্ষার্থীরা টব এনে গাছের চারাটা প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিলে, তিনি ওই টবে গাছ লাগিয়ে দেন।

আরেকটি স্টলে শিক্ষার্থীরা ছবি তোলার আবদার করলে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো অসুবিধা নেই। এই বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্টলের ভেতরে চলে যান এবং শিশুদের সঙ্গে দাঁড়ান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

 ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮৭ জন

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮৭ জন

স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে যে বার্তা দিলেন হাইকোর্ট

স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে যে বার্তা দিলেন হাইকোর্ট

জেলেদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা

জেলেদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা

বিশ্বকাপে নতুন মাইলফলক ছুঁলেন লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপে নতুন মাইলফলক ছুঁলেন লিওনেল মেসি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App