বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এক অবিনাশী স্মৃতি
হ্যাকনিতে নিহত ইসহাক আলীকে স্মরণে শোকসভা
আজিজুল আম্বিয়া, লন্ডন
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সময়ের স্রোতে কেটে গেছে দীর্ঘ ৪৮ বছর। তবুও পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনির রাস্তায় বর্ণবাদী হামলায় নিহত ইসহাক আলীর স্মৃতি আজও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির হৃদয়ে এক বেদনাময় ইতিহাস হয়ে জাগরুক। সেই আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে গত ১৬ জুলাই টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলতাব আলী ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আনসার আহমেদ উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ইসহাক আলীর জীবন, সংগ্রাম ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষমূলক সহিংসতার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য দেন ইসহাক আলীর দুই ছেলে কবির আহমেদ ও সোহেল আহমেদ। স্মৃতিচারণ করেন তার শ্যালক জাহাঙ্গীর খান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল চৌধুরী, যিনি ১৯৭৮ সালে ইসহাক আলীর হত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরো বক্তব্য দেন জালাল রাজন উদ্দিন, বশির উদ্দিন, মুসা জব্বার, আনা মিয়া, টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক মেয়র সেলিম উল্লাহ, আলতাব আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের রফিক উল্লাহ, বাংলাদেশ ইয়ুথ ফ্রন্টের আব্দুল সাত্তার, জামাল খান, আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ার, নাজমা হোসেন, আব্দুল মালিক খোকন, রাজু নাথান, শেখ নূর, ইমদাদুন খানম, কাজী রুকসানা বেগম, সাংবাদিক রেজাউল করিম মৃধা, সাজ্জাদ হোসেনসহ কমিউনিটির বিশিষ্টজন।
বক্তারা বলেন, সত্তরের দশকের বর্ণবাদী উন্মত্ততা অনেকটাই স্তিমিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে উগ্র ডানপন্থি রাজনীতির উসকানিতে সেই অমানবিক বিদ্বেষ আবারো নতুন রূপে ফিরে আসছে। এর শিকার হচ্ছেন আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা সতর্ক করে বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ঘৃণা ও বিভাজনের এই বিষবৃক্ষ আরো বিস্তৃত হতে পারে। বক্তাদের ভাষায়, ইসহাক আলীর নাম কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি নয়, বরং ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে এক অবিনাশী প্রতীক। তার আত্মত্যাগ স্মরণ করিয়ে দেয়, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কখনোই অতীতের বিষয় নয়, বরং এটি প্রতিটি প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব।
আলতাব আলী ফাউন্ডেশন জানায়, হ্যাকনিতে ইসহাক আলীর স্মৃতি সংরক্ষণ, বর্ণবাদ বিরোধী চেতনা ছড়িয়ে দেয়া এবং সম্প্রীতির সমাজ গঠনে তারা ভবিষ্যতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে বর্ণবাদী হামলার শিকারদের স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ আরো জোরদার করা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে হাফিজ মো. জিলু খান ইসহাক আলীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। দোয়ার মধ্য দিয়ে উপস্থিত সবাই বৈষম্যহীন, মানবিক ও সম্প্রীতির সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
