×

শেষের পাতা

১০ মাসে ব্যক্তিতুষ্টির উন্নয়ন কাজে ব্যয় সাত কোটি টাকা

Icon

বাবুল আকতার, খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

১০ মাসে ব্যক্তিতুষ্টির উন্নয়ন কাজে ব্যয় সাত কোটি টাকা

সরকার গ্রামাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, সেনিটেশন, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা উন্নয়ন বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের তহবিলের ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নয়ন তহবিল প্রায় শূন্য তাই কাজ বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঠিকাদারসহ কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী রাজস্ব তহবিলে স্থিতি ছিল ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৩ টাকা। উন্নয়ন তহবিলের স্থিতি ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৬২২ টাকা। এর ১০ মাস পরে চলতি বছর মে মাসের ২১ তারিখের সভায় জানান হয় রাজস্ব তহবিলের স্থিতি ৩ কোটি ৩০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৬ টাকা। অপরদিকে উন্নয়ন তহবিলে স্থিতি রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭২৯ টাকা। মাত্র ১০ মাসে উন্নয়ন তহবিলের ৭ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৩ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু সেসব কাজ বিশেষ ব্যক্তিদের তুষ্ট করতেই ব্যয় হয়েছে। অপরদিকে বিপাকে ও আর্থিক লোকসানে পড়েছেন ঠিকাদাররা। বর্তমানে উন্নয়ন তহবিলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭শ’ ২৯ টাকা।

এদিকে উন্নয়ন তহবিলে অর্থ নেই এমন অজুহাতে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় নেয়া ২৫-২৬ অর্থবছরের ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হতে বসেছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদাররা উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের সাতটি প্যাকেজে ৫৪ টি কাজ যার প্রাক্কলিত ব্যয় ৮০ লাখ টাকা বন্ধ হয়ে পড়েছে। দুমাস আগে ২১ মে লটারির মাধ্যমে টেন্ডার করা হয়। কাজের অনুমতি ঠিকাদারদের দেয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। কাজ পাওয়ার পরে অনেক ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করে বিল দাখিল করেছেন। এরপর জানতে পারেন উন্নয়ন তহিবলে টাকার সংকট রয়েছে। এখন ঠিকাদাররা হতাশ হয়ে পড়েছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে সড়ক উন্নয়ন, নলকূপ, মসজিদ মন্দির,মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্কার ও প্যালসাইডিং। অবশিষ্ট ৯০ লাখ টাকার কাজ দরপত্র আহ্বানের পর্যায়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি শেখ শাহিনুর রহমান জানান, ঠিকাদারদের অনেক অর্থ ব্যয় করে কাজের দরপত্র দাখিল করতে হয়। ভাগ্যগুণে অনেকে কাজ পান আবার অনেকের অর্থের অপচয় হয়। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেন্ডারে শতাধিক ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করে। তাদের প্রত্যেকের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা ব্যয় হযেছে। যারা লটারির মাধ্যমে কাজ পেয়েছে তাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যাদেশ প্রদান করছেন না। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে ঠিকাদারদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দরুল হুদা জানান, প্রকৌশল দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া এবং ঠিকাদাররা দরপত্র দাখিলের পর লটারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু উপজেলা তহবিলে অর্থ না থাকায় ঠিকাদাররা কার্যাদেশ পাচ্ছেন না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার জানান, তহবিলে টাকা নেই। ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেয়া হলে তারা কাজ শেষ করে বিল দাখিল করবে। কিন্তু তাদের বিল পরিশোধের মতো অর্থ তহবিলে নেই। ইতোমধ্যে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার জানান, ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তহবিলে অর্থ না থাকায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের কিছু কাজ লটারি হলেও ঠিকাদাররা কার্যাদেশ পাচ্ছেন না। তাদের কার্যাদেশ দিলে তারা কাজ শেষ করে বিলের জন্য বিরক্ত করবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পুলিশে বড় রদবদল

পুলিশে বড় রদবদল

উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

চিকিৎসার জন্য রাতেই সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া

চিকিৎসার জন্য রাতেই সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া

স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিলো মাদ্রিদ

স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিলো মাদ্রিদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App