আয়নী ধর্ষণচেষ্টা, হত্যায় রুবেলের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিড়ালছানাকে খুব আদর করত আয়নী। আর তাই তাকে সেই বিড়ালছানা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অন্যত্র নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেল। এ ঘটনা অন্যদের বলে দিলে সমস্যা হবে তাই নয় বছরের শিশুকন্যা আয়নীকে হত্যা করে একটি ডোবায় ফেলে দিয়েছিল ঘাতক রুবেল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
প্রায় তিন বছর আগের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অপরাধে আসামি রুবেলের উপস্থিতিতেই চট্টগ্রামের একটি আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন । একই সঙ্গে পৃথক ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯(৪)(খ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, উভয়পক্ষের জেরা এবং আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সকল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামি রুবেলকে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড, নারী ও শিশু আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন, ৯ (৪) খ ধারায় ১০ বছর এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে তার মা পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই হত্যাকাণ্ডটির তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দায়িত্ব দেয়ার পর মামলার আসামিসহ হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি অনুসন্ধানে বের করে আনতে সক্ষম হন পিবিআই-এর তৎকালীন তদন্ত টিম।
তাদের তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয় দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির ব্যবহৃত পোশাক ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর আয়নীর মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
তবে বিচার চলাকালে মামলার নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ধর্ষণের অভিযোগের পরিবর্তে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার নথিতে আরো উল্লেখ করা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে বিড়ালছানা দেয়ার কথা বলে রুবেল আয়নীকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়।
