হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গে আর এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৫ জনের আর ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। ডেঙ্গুতে একদিনে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা এটি। গতকাল সোমবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১ জন কন্যাশিশু, যার বয়স শূন্য থেকে ৫ বছরের মধ্যে এবং ২ জন নারী, যাদের একজনের বয়স ৩১ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে ও আরেকজনের বয়স ৪৬ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরো ৩৭২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৩ জন। ঢাকা উত্তর সিটিতে ২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬ জন রোগী রয়েছেন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১০ হাজার ৮৫৭ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৮৬ জন। চলতি বছর মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। এর মধ্যে ২২ জন নারী আর ১৫ জন পুরুষ। বর্তমানে চিকিৎসাধীন মোট রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪ জন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৮৩ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা বিভাগে।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গেল ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। তাদের মধ্যে ৩ জন সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১ জন করে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৬৯ শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছেন। ১৪৭ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরো ৯২২ শিশু।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও ভাইরাসজনিত এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ৭৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৯৮টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৫৭৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ৫৩২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
