ভিআইপি বহর সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত সরকারের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারি প্রটোকল ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে রাজধানীতে চলাচলের সময় অধিকাংশ মন্ত্রীর জন্য পুলিশের এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এতদিন পুলিশের বিশেষ পাহারায় চলাচল করা ১৮ জন মন্ত্রীকে এখন থেকে এসকর্ট ছাড়াই যাতায়াত করতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে কেবল ছয়জন মন্ত্রী ও একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা রাজধানীতে এসকর্ট সুবিধা পেতে থাকবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে রাজধানীর বাইরে সরকারি সফরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সব মন্ত্রীর জন্য নিরাপত্তা ও পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
বিশেষ সুবিধায় কারা : রাজধানীতে এসকর্ট সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের জন্য। তবে কোন নিরাপত্তা মূল্যায়ন বা ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাদের জন্য এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজন ও নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের এই সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কমছে জনবল ও গাড়ির ব্যবহার : ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একজন মন্ত্রীর এসকর্ট গাড়িতে সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দায়িত্ব পালন করে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ১৮ জন মন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রায় ৯০ পুলিশ সদস্যকে অন্য দায়িত্বে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর আগে মন্ত্রীদের এসকর্ট ব্যবস্থায় প্রায় ১২০ জন পুলিশ সদস্য ও ২৫টি গাড়ি ব্যবহৃত হতো। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০-৩৫ জন সদস্য ও সাতটি গাড়িতে। অব্যাহতি পাওয়া জনবল ও যানবাহন রাজধানীর অন্যান্য পুলিশি কাজে ব্যবহার করা হবে।
কেন নেয়া হলো এই সিদ্ধান্ত? : সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, কোনো একক কারণ নয়; বরং একাধিক বাস্তবতা বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়, পুলিশের যানবাহনের সীমাবদ্ধতা, সরকারি প্রটোকল সরলীকরণ ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর লক্ষ্যই ছিল মূল বিবেচ্য বিষয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব বহর ও প্রটোকলও আগের তুলনায় ছোট করার সিদ্ধান্ত এ পদক্ষেপকে প্রভাবিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে একদিকে সরকারি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে রাজধানীর সড়কে অপ্রয়োজনীয় যানজটও কিছুটা হ্রাস পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর বহরেও পরিবর্তন : কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বহরে আগে পুলিশের দুটি প্রটোকল গাড়ি থাকলেও বর্তমানে সেই ব্যবস্থাও সীমিত করা হয়েছে। তার মূল নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)। পুলিশের পক্ষ থেকে এখন শুধু মোটরসাইকেল পাইলট দল দায়িত্ব পালন করছে, যেখানে সামনে ও পেছনে মোট চারজন সদস্য বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এসকর্ট সুবিধা সীমিত করার ফলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, যানবাহন ও জনবলের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে রাজধানীর নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশি কার্যক্রমে অতিরিক্ত জনবল ও গাড়ি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
