গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ল একেএস
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের স্টিল শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উৎপাদন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বিশ্বপরিসরে নতুন স্বীকৃতি লাভ করেছে। আর দেশের জন্য এই সুনাম এনেছে আবুল খায়ের স্টিল (একেএস)। স্টিল শিল্পে নতুন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড স্থাপন করেছে একেএস। এক মিনিটে সর্বাধিক স্টিল রিবার উৎপাদনের স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-এর (মোস্ট স্টিল রিবার প্রোডিউস্ড ইন ওয়ান মিনিট) রেকর্ডের অধিকারী হয়েছে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-এর নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, একেএস মাত্র ১ মিনিটে ৫২টি স্টিল রিবার উৎপাদন করে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ছিল ১০৮ মিটার। বিশ্বের দ্রুততম রিবার রোলিং মিলের সক্ষমতা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ প্রকৌশল ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে এই রেকর্ড অর্জিত হয়েছে। একেএস-এর উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (ইএএফ) প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ১০০ শতাংশ রিফাইন্ড স্টিল উৎপাদন করা হয়।
এ বিষয়ে আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, ইমরান মোমিন গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের আবাসন, শিল্প ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে নির্ভরযোগ্য স্টিল সরবরাহের মাধ্যমে একেএস দীর্ঘদিন ধরে আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এ বিশ্বরেকর্ড অর্জন শুধু একেএস-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নয়, এটি বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশ্বমানের প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং উৎকর্ষের প্রতি আমাদের অবিচল প্রতিশ্রুতির ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সর্বোচ্চ মানের স্টিল উৎপাদনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উৎপাদন উৎকর্ষের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের প্রতিও প্রতিষ্ঠানটি সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে একমাত্র আবুল খায়ের স্টিলই তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় জিরো ওয়াটার ডিসচার্জ প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পানি সম্পূর্ণভাবে পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করছে।
একই সঙ্গে সৌরশক্তির ব্যবহার, অত্যাধুনিক ফিউম ট্রিটমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নির্গমণ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত উপকরণের পুনর্ব্যবহার এবং নিজস্ব পাওয়ার প্লান্টের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয়ে একেএস শিল্পোন্নয়ন ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।
