চা শিল্পের বিকাশ ও সংকট নিরসনে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংকট নিরসনে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় দেশের বিভিন্ন চা বাগানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এই শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু দাবি ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে হাসান শিপলু বলেন, চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো কীভাবে কী করা যায়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠক করেছেন। তিনি সমস্যাগুলো শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠকে চা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন চা বাগানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু দাবি ও প্রস্তাবও সামনে আনেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে হাসান শিপলু বলেন, বাংলাদেশের চা শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ শিল্পের বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে।
চা বাগান মালিকদের বিদ্যমান ঋণের দায় সহজীকরণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া, চা বাগানে চাষের অনুপযোগী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেয়া এবং এ ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান উপ প্রেস সচিব।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান : সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, পেশাগত যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
গতকাল রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এই পর্ষদ সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট পদমর্যাদার (যেমন কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল) কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, সার্ভিস রেকর্ড ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করে পদোন্নতির বিষয়ে সুপারিশ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারপ্রধান। ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পেশাদার ও আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, পেশাগত যোগ্যতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বের গুণাবলী ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ ভূমিকার জন্য সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, স¤প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।
তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই এ বাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করার চক্রান্ত হয়। সে সময় সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির এক ধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সেনা সদস্যদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছলে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান তাকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষাসচিব আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সেনাবাহিনীর পরিদর্শন বইয়ে সেই করেন।
