কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন অবশেষে গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে যশোর সদরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গত মঙ্গলবার রাতে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করার পর বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি টিমের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এই গ্রেপ্তার অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অংশ নিয়েছিল। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ডেভিড ইমন ও রায়হানসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করেছে। যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। নোয়াখালীতে একটি টিম রায়হানকে গ্রেপ্তারে অভিযান করে। অল্পের জন্য রায়হান পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’
তবে এর চেয়ে বেশিকিছু না বলে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারসহ পুরো অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত রবিবার রাতে নগরীর অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।
এ ব্যাপারে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, রবিবার রাতে আসিফকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার (আসিফ) কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আরিফের প্যান্টের পকেট থেকে আরও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন নিজেদের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে স্বীকার করে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথাও জানিয়েছে তারা।
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে গত কয়েক বছর ধরে চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে।
বেশ কিছুদিন যাবৎ এই ডেভিড ইমন নগরীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপতির বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হুমকি ও প্রকাশ্যে গুলি করিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে রাখছিল। এমনকি বিদেশি মোবাইল নম্বরের হোয়াটনঅ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীকে মোটা অংকের টাকা দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। তবে কিছুদিন আগে নগরীর বাঁকলিয়া এক্সেস রোডে একটি স্বনামখ্যাত ইন্টারনেট প্রোভাইডারের অফিসে বিপুল অংকের চাঁদার দাবিতে সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালায় তার বাহিনী। ফলে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেন অতিদ্রুত এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের।
এরপরই পুলিশ নড়েচড়ে বসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যরাও এ ব্যাপারে তৎপর হন। ফলে অনেক চেষ্টার পর কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলো।
