মহিলা পরিষদ
শিক্ষকের বিরুদ্ধে মবসন্ত্রাস ও অপপ্রচারে উদ্বেগ প্রকাশ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মব ভায়োলেন্স (সংঘবদ্ধ সহিংসতা), শিক্ষক নিগৃহীত হওয়া ও নারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোাদিত অপপ্রচারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি। পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সা¤প্রতিক সময়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাঙ্গণে অস্থিরতা বেড়ে চলেছে। ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ, শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি শিক্ষার সুষ্ঠু কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যা সমগ্র শিক্ষাব্যাবস্থায় গভীর ক্ষত তৈরি করছে। কোন শিক্ষক বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলেই অনেক ক্ষেত্রে আইন বা প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধানের পরিবর্তে মব বা সংঘবদ্ধ জনতার চাপের মাধ্যমে তাকে হেনস্তা, অপমান, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপদস্ত করা, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা, নারী শিক্ষকসহ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া, নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। শিক্ষাঙ্গনে সংঘটিত এসব ঘটনায় মহিলা পরিষদ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
পরিষদ মনে করে, শিক্ষাঙ্গণে সংঘবদ্ধ সহিংসতার ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষকদের অপমান এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার
কারণে কোনো শিক্ষকের প্রতি অবমাননামূলক আচরণ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। এতে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং জ্ঞানচর্চা করতে ভয় পাবেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও যুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগ এবং জনতার চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত আদায়ের প্রবণতা বাড়বে। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মহিলা পরিষদ ঢাকা শ্বিবিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবিলম্বে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা, শারীরিক মানসিক নিপীড়ন, অপমান ও হেনস্তা বন্ধ এবং এসব কার্যক্রমের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছে এবং কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে মহিলা পরিষদ নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্রহনন, কুৎসা, গুজব, যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য প্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
