×

শেষের পাতা

সাভারে পরপর প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধারে জনমনে উদ্বেগ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারে পরপর প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধারে জনমনে উদ্বেগ

ঢাকার সাভারে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ আরো বেড়েছে। সর্বশেষ বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর এলাকায় মসজিদের মাঠে পাওয়া স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেসার কুকার গতকাল বুধবার বিকালে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিষ্ক্রিয় করেছে। একই সময়ে সাভারের শ্যামপুরে একটি আস্তানা থেকে ১৪টি বোমা, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধারের পর এসব ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গতকাল বুধবার বিকাল ৩টা ২৮ মিনিটের দিকে সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে থাকা বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকা লোকজন বিকট শব্দ শুনতে পান ও আকাশের দিকে সাদা ধোঁয়া উড়তে দেখেন। এর আগে বেলা পৌনে দুইটার দিকে ইউনিটটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম শুরু করে।

সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান। ড্রামের ভেতরে কাপড়চোপড়, কোরআন শরিফ ও কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেসার কুকার ছিল। স্থানীয়রা প্রেসার কুকারটি ড্রাম থেকে বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারটি দেখতে পায়। পরে বিষয়টি ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাতে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি প্লাস্টিকের ড্রামটি সেখানে রেখে যান। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সাধাপুরের এই ঘটনার আগে গত ৩০ জুলাই রাতে আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে একই ধরনের একটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। সেটিও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিরাপদ স্থানে নিয়ে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে। এদিকে, সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১৪টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে বিস্ফোরক তৈরির সম্ভাব্য একটি নেটওয়ার্ক। সিটিটিসি, স্থানীয় থানা পুলিশ, এনএসআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটি চারতলা ভবনে অভিযান চালান। প্রথমে পাঁচটি ও পরে আরো ৮টি মোট ১৩টি পাইপ বোমা উদ্ধারের কথা জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে পুলিশ জানায়, শ্যামপুর এলাকা থেকে মোট ১৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই বাসা থেকে জেএমবির লিফলেট, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এর আগে একই এলাকা থেকে আরিফ হোসেন নামে এক

যুবককে পাঁচটি তাজা হাতবোমাসহ আটক করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শ্যামপুরের ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের কাছে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলোর গঠনপ্রণালি। পুলিশ বলছে, বাসাবাড়ির পানির লাইনে ব্যবহৃত সাধারণ পাইপ ব্যবহার করে এসব বোমা তৈরি করা হয়েছে। ফলে এগুলো সহজে নজর এড়িয়ে বহন ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশঙ্কা। সিটিটিসি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শ্যামপুরের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বোমাসদৃশ বস্তুর মধ্যে কারিগরি মিল রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া ছাতা বোমা ও কেরানীগঞ্জের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গেও সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের সন্দেহ, এসব বিস্ফোরক একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাভারের কোনো একটি আস্তানায় তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের অন্যতম সন্দেহভাজন সংগঠক নাজমুল হাসান ওরফে বোমারু মামুন এখনো পলাতক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি নব্য জেএমবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। তার নেতৃত্বে একটি গোপন সেল সক্রিয় ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন ও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

শ্যামপুরের বাড়ির মালিক আব্দুল জলিল ও তার মেয়ে ইলমা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী পরিচয়ে এক ব্যক্তি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িটি ভাড়া নেন। তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি পাবনায় ও তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন। পরিবার নিয়ে বসবাস করবেন- এমন পরিচয় দেয়ায় তাদের বাসা ভাড়া দেয়া হয়েছিল বলে জানান বাড়ির মালিক। বাসার ভেতরে বোমা ও বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল- এমন কোনো তথ্য তাদের জানা ছিল না বলেও দাবি করেন তারা। সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, শ্যামপুর এলাকা থেকে মোট ১৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্ফোরক চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশ ও সিটিটিসি সূত্রের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে এসব ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। পরপর প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার ও একই এলাকায় বিপুল পরিমাণ বোমা এবং বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ পাওয়ার ঘটনায় সাভারে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও ধর্মীয় স্থাপনের আশপাশে এ ধরনের সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যাওয়ায় সতর্কতা আরো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিং করার কথা থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আদিত্যর সঙ্গে সম্পর্ক-ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খুললেন পূজা

আদিত্যর সঙ্গে সম্পর্ক-ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খুললেন পূজা

বিনিয়োগ ও সংস্কারে বাংলাদেশের জন্য এডিবির নতুন বার্তা

বিনিয়োগ ও সংস্কারে বাংলাদেশের জন্য এডিবির নতুন বার্তা

চলতি মাসে আরও ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

চলতি মাসে আরও ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App