বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক নীতিমালা, সরকারি সহযোগিতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশাপ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মার্কিন ব্যবসার পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রক কাঠামো সহজ করা, ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতি গ্রহণে সরকার প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। তার ভাষায়, সরকারের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতনির্ভর, নিয়মভিত্তিক ও বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসকে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার উন্নয়ন, মুনাফা দেশে ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি সরকারি সেবাকে আরো ডিজিটাল করার কাজ চলছে।
অবকাঠামো, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কথা জানান তিনি। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও পরামর্শক সেবার মাধ্যমেও মার্কিন ব্যবসাকে বাংলাদেশে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই উদ্দেশ্য। নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণে সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশের গুরুত্ব তিনি ভালোভাবে বোঝেন। মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়ে সরকার শুনতে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এর আগে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ব্যবসার সুযোগ নিয়ে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, সরকারের অগ্রাধিকার ও নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন ব্যবসায়ী নেতারা আরো স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।
