জানালেন সিইসি রাষ্ট্রপতি ভোটে হাউসে প্রচার নিষেধ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের দিন জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচের খবরকে ‘গুজব’ বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিইসি। এ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সিইসি বলেন, সংসদ ভবনের ভেতরের পরিবেশ ও বিধিমালা বজায় রাখার দায়িত্ব স্পিকারের। সংসদ সচিবালয় নিজস্ব আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। তবে ভোটের দিন হাউসের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।
সাধারণত নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইন অনুযায়ী ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে সিইসির ওপর দায়িত্ব থাকায় তিনি নিজেই সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সিইসি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর একই দিন ক্যাবিনেট ডিভিশন থেকে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশে এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় প্রতিদ্ব›িদ্বতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালার আলোকে পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। ঘোষিত
তপশিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এরমধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নামে দুটি এবং বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটিই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে একই প্রার্থীর দুটি মনোনয়নপত্রের একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় চূড়ান্তভাবে দুই প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কেউ নাম প্রত্যাহার করেননি।
সিইসি জানান, এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোট গ্রহণ হবে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট গ্রহণ শেষে বিকাল ৫টার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে। গণনার পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে বলে জানান সিইসি। ভোটার ও প্রার্থীদের নাম ব্যালটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় ভোটের বিষয়টি উপস্থিত সবার কাছে উন্মুক্ত থাকবে। ভিআইপি ভোটারদের ভোটদান ও ফল গণনার পর্ব বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংসদের বৈঠক ডাকা এবং কিছু ব্যালট ও স্টেশনারি ছাড়া কমিশনের আলাদা কোনো বড় ধরনের আর্থিক ব্যয় বা অতিরিক্ত বাজেট তৈরি হয়নি বলেও জানান সিইসি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল এ নির্বাচনের দিকে নজর রাখছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে।
