১১ সংগঠনের যৌথ সংবাদ সম্মেলন
ভূমি-কৃষি ব্যবস্থাপনা সংস্কারে আলাদা কমিশন গঠনের দাবি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক : মৌলিক ভূমি ও কৃষি ব্যবস্থাপনা সংস্কারের জন্য একটি আলাদা কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়েছে ১১টি সংগঠন। তারা বলছে, এই কমিশন ভূমি ও কৃষি সংস্কারে আশু করণীয়, মধ্য মেয়াদে করণীয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে করণীয় চিহ্নিত করে সুপারিশমালা তৈরি করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আলাদা কমিশন গঠন করাসহ মোট ১০টি দাবি জানায় তারা।
সংবাদ সম্মেলন আয়োজক সংগঠনগুলো হলো- এএলআরডি, নিজেরা করি, ব্লাস্ট, বেলা, বারসিক, কাপেং ফাউন্ডেশন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন, ইনসিডিন-বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- বারসিকের পরিচালক ও গবেষক পাভেল পার্থ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, ব্লাস্টের পরিচালক অ্যাডভোকেট বরকত আলী, কাপেং ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি উজ্জ্বল আজিম, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের আইনজীবী নাহিদ শামস, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক নিরালা মার্ডি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষে মূল বক্তব্য পাঠ করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। মূল বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, জিডিপিতে অবদানের ক্ষেত্রে সেবা ও শিল্প খাতের পর কৃষি (ফসল, মৎস, প্রাণিসম্পদ ও বন) তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাত। বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কৃষির গুরুত্ব সর্বাধিক। দেশে কৃষি শ্রমশক্তির ৫৮ শতাংশই নারী এবং মোট নারী শ্রমশক্তির সিংহভাগই (৭৪%) কৃষিতে নিয়োজিত। এরপরেও নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে ভূমি ও কৃষিতে তাদের অভিগম্যতা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে কখনোই গুরুত্ব পায়নি। দেশের আদিবাসীরা তাদের ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তার অধিকার সুরক্ষিত নয়। প্রকৃত কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলহানির শিকার হন, দেশি-বিদেশি বীজ, কীটনাশক, কৃষিসরঞ্জাম কোম্পানির হাতে শোষিত হন এবং সর্বোপরি ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। মূলত তাদের সুরক্ষার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত। অন্যদিকে ভূমি বিরোধের বিচারের ক্ষেত্রেও তাদের বিপুল অর্থব্যয়সহ হয়রানি ও ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, যা প্রতিকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
১০ দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ভূমি ও কৃষি সংস্কারের জন্য একটি আলাদা কমিশন করতে হবে। এই কমিশন ভূমি ও কৃষি সংস্কারে আশু করণীয়, মধ্য মেয়াদে করণীয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে করণীয় চিহ্নিত করে সুপারিশমালা তৈরি করবে; ভূমি ও কৃষির জন্য এ বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যোগ্য একজন ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। তিনি এ দুটি মন্ত্রণালয়ের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন; ভূমি ও বনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকার এবং তাদের নিজস্ব চাষাবাদের স্বীকৃতি দিতে হবে। জুমচাষিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কৃষকদের কৃষিঋণের আওতায় এনে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে।
