বন্যার্ত মানুষকে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে অত্যন্ত ধীরগতির অভিযোগ
চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, চারিদিকে শুধু পানি আর পানি
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামে গত ৪ জুলাই থেকে এক টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত দুইদিন যাবৎ চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা অনেকটা কমলেও জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। বন্যার পানিতে পড়ে এরই মধ্যে অত্যন্ত ১০ শিশুসহ ১৫ জন মারা গেছে। তবে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে। তবে সাতকানিয়াসহ কয়েকটি বন্যাকবলিত এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করেছেন।
সরকারিভাবে বন্যাকবলিত মানুষদের বাঁচানো, তাদের কষ্ট লাঘব ও পর্যাপ্ত খাবার পানি, খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয় দেয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন তা ঠিকভাবে করতে পারছে না বলে অভিযোগ আছে। বন্যাকবলিত জনসাধারণের সাহাযার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানালেও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত উপজেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। যা-ও কয়েকটি স্থানে দেখা গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
চট্টগ্রামের অনেকেই আক্ষেপ করে বলছেন, বাংলাদেশের কোথাও বন্যা হলে সেসব বন্যাকবলিত মানুষের পাশে চট্টগ্রামের লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়েন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি বন্যার পানির প্রবল স্রোতে একটি সেতু ভেঙে পড়ায় এই পথে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া সেতুটি ভেঙে পড়ায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা হয়ে বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখন বন্ধ আছে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি বইছে। চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের ওপর দিয়েও পানি উপচে পড়ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেল চলাচলও বন্ধ। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
ত্রাণপ্রতিমন্ত্রী বললেন, চট্টগ্রামের অবস্থা ‘ভয়াবহ খারাপ’ এরই মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণপ্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সফরে এসে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ খারাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি এও বললেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে সরকারের হাতে। স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আমরা গত চার-পাঁচদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছি। আগামী দুদিন পাঁচ জেলায় যাব। ওখানে ক্ষয়ক্ষতি, আরো নতুন করে কারো সাহায্য দরকার আছে কি না, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করব। স্থানীয় প্রশাসন যে রকম চাচ্ছে, আমার ও রকম দিয়ে যাচ্ছি। আমরা রেডি, যা লাগবে তা দিব। এখানকার অবস্থা আসলে ভয়াবহ খারাপ। আমরা জানি কতটুকু খারাপ। সেজন্য ওভাবে পদক্ষেপ নিতে পারছি। সরজমিন দেখার জন্য আসছি।
কীভাবে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে, সেটা দেখতে এসেছি। যদি মনে করেন, কোনো ইনপুট দিতে হবে, এখান থেকেই দিয়ে দিব। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যা দুর্গতদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে পুনর্বাসন পরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে সরকারের হাতে। স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ সরবরাহ করা হবে।
সাহায্য ঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না এমন অভিযোগে উঠেছে, সাংবাদিক মোস্তফা ইউসুফ অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন যে গাফেলতির প্রমাণ দিয়েছে এবারের বন্যায়, দুর্গত মানুষের ভাষ্য থেকে তার প্রমাণ মিলছে। দুর্গত এলাকায় জেলা প্রশাসনের সাহায্যের যে দাবি তার সঙ্গে মাঠের চিত্রের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ নিয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন তাদের কাছে অনুরোধ আপনারা মূল সড়ক থেকে দূরে যেসব বন্যা আক্রান্ত এলাকা আছে সেগুলোকে প্রাধান্য দেন। পারলে যারা সাহায্য নিয়ে যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে যেতে কষ্ট হলেও সেখানে যান। পশ্চিম বাঁশখালীর অবস্থা খুব খারাপ দেখলাম।
তিনি বলেন, সেখানে সরকারি, বেসরকারি কেউ যায়নি এখনো, এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দুর্গতদের পাশে থাকেন। সংবাদমাধ্যমে অতিরঞ্জিত তথ্য দিবেন না। অসংখ্য চোখ আছে যারা আপনারা কী করছেন সেটা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।
এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ডুবে গেছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে এবারের বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় কমপক্ষে ৩ লাখ ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট, পুকুর, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে আছে। অনেক গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বন্যায়। এমনকি কেউ মারা গেলেও তার কবরও দেয়া যাচ্ছে না নিজের এলাকায় ?শুকনো জায়গার অভাবে। সাতকানিয়া কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকান শুক্রবার ভোরে ইন্তেকাল করেছেন। উপায় না দেখে স্থানীয়রা তাকে কলা গাছের ভেলায় নিয়ে দূরের অন্য একটি স্থানে কবর দেন।
বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আনোয়ারায় পানিতে ভেসে আসা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার দক্ষিণ রূপকানিয়া গ্রামে দুই বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন পানিতে ডুবে মারা যান। সাতকানিয়ায় এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজ আছে বলে জানালেন ইউএনও মাহমুদুল হাসান।
স্থানীয়দের বরাতে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানালেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে জমে থাকা বন্যার পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটিকে পানি থেকে তুলে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়া গ্রামে সাগরে ভেসে আসা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম-পরিচয় এখনো পুলিশ জানতে পারেনি। বয়স প্রায় ৪৫ বছর।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বললেন, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা মরদেহটি সাগরে বেড়িবাঁধের ব্লকে আটকে ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানালেন।
কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে নদীতে যুবক ভেসে গেল- রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদী থেকে ভাসমান কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে মো. সোলায়মান (২০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে পূর্ব সরফভাটা এলাকায় নদীতে ডিঙি নৌকা উল্টে এই ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় সোলায়মানের বড় ভাই আবদুল হালিমও (৩০) নদীতে পড়ে যান। পরে তিনি কোনো রকমে কূলে উঠে আসেন। তারা দুজন পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রি বাড়ির বদিউল আলমের ছেলে।
ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে দুই ভাই নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে যান। তারা বন্যার পানিতে ভেসে আসা কাঠ সংগ্রহ করছিলেন। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে নৌকাটি উল্টে যায়। দুজন নদীতে পড়ে যান। এ সময় আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করে কূলে তোলেন। ছোট ভাই সোলায়মান প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়।
বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে শিশু মৃত্যু বাড়ছে- দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও বানের পানির স্রোতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত শুক্রবার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বিকালে উপজেলার সরল ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পা পিছলে পড়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় ৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুর নাম মোছাম্মৎ তাহিন নুর (১২)। সে সরল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম জালিয়াঘাটা এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে।
তাহিন নুরের মৃত্যুর আগে আজ দুপুরে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বানের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তৎপরতা- জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। উদ্ধার হওয়া মানুষের জন্য জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বর্তমানে আরো ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে মজুত রয়েছে।
সাতকানিয়ার জন্য ইতোমধ্যে ৯ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একই কার্যক্রম চলছে। সাতকানিয়ার পরিস্থিতি সরজমিন পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। স›দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও সবাইকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
